বুড়িমারীতে জুয়েল হত্যা: ৫ আসামি গ্রেফতার

লালমনিরহাট: জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে ধর্ম অবমাননার গুজবে সহিদুন্নবী জুয়েলকে (৫০) পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত ৫ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন রায় মোহন্ত এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি, বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে। আর পুলিশ  অপর একটি মামলা দায়ের করে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ওই ঘটনার পর থেকেই পাটগ্রাম ও বুড়িমারী স্থলবন্দরে বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্যসহ বিভিন্ন দপ্তরের সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। তাছাড়াও তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) টিএম মোমিনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। আলামত সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে গিয়েছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বেশ কয়েকটি দল। তারা মাঠে কাজ করছেন।

পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন রায় মোহন্ত জানান, শত শত মানুষকে আসামি করে থানায় ৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। এদের মধ্যে অজ্ঞাতনামা আসামিও রয়েছে। আপাতত আইনি অসুবিধার কারণে এসব তথ্য এখন দেয়া যাবে না। তবে আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।

লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে যাকে পিটিয়ে হত্যার পর পেট্রোল দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। সেই সহিদুন্নবী জুয়েল বুড়িমারীতে গিয়েছিলেন ওষুধ কিনতে।

নিহত সহিদুন্নবী জুয়েল রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রীপাড়ার আব্দুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে। তিনি রংপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক গ্রন্থাগারিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। গত বছর চাকরিচ্যুত হওয়ায় মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন তিনি।

স্বাআলো/ডিএম /কে