যেদিন আমি চলে যাবো

যেদিন আমি চলে যাবো

এ সংসার ছেড়ে…

সেইদিন থেকেই সব মায়া-মহব্বত হবে ত্যাগ,

সকলের সমীপ থেকে হবো মোর চিরতরে বিচ্যুত…

তৈরি হবে বিপ্রকর্ষ।

কারণ আমি যে এক বিদেহী শব!

কেউ রাখবে না মনে এই আমায়।

হয়তো বা কখনো কখনো চিন্তার আড়ালে,

অন্তরালে ক্ষণে ক্ষণে পড়বে স্মৃতিচিহ্ন মনে।

যেদিন আমি চলে যাবো

এ জগৎ ছেড়ে…

ঝরবে দু’নয়নের অশ্রুর বারি ধারা অঝর ধারে!

নিশ্চল রোদন, হবে নিশ্চেতন…

যার পদতলে আমার বেহেশত!

সেই নিঃস্বার্থ ভালবাসার অধিকারিণী মোর জননী।

চোখের অশ্রু ঝরবে…

যার বটবৃক্ষের ছায়ার তলে, একটু শান্তির খোঁজে

ছিলাম দন্ডায়মান!

খুঁজে পেয়েছিলাম জীবনের আভা!

সেই জন্মদাতা পিতৃ।

ভ্রাতা-বোন নাই বাকী রইল; প্রতিবেশী তো দূরের কথা।

যেদিন আমি চলে যাবো

এ রাজ্য ছেড়ে…

থাকবে ব্যস্ত অনধিক অনুচরবর্গ,

কেউবা স্নান, কেউবা গোর খুঁড়তে।

আর প্রতিবেশী আত্মীয় গুনবে অষ্টপ্রহর

কবে হবে আমার শ্রাদ্ধ।

যেদিন আমি চলে যাবো

এ ধরাতল ছেড়ে…

শুধু ভাগ্যে জুটবে তিন খন্ড চীর কাফানি বসন,

আর সাড়ে তিন হাত মৃত্তিকার আগার।

আপন বলতে কেউ যাবে না মোর সাথে,

আমি চলে যাবো, চিরতরে এ বসুমতী ছেড়ে…

বিশাল বারিধি দিতে হবে পাড়ি,

এ বড় কঠিন ধরণী, পাবো না দু’হস্তে বেড় বেলাভূমি।।

সিরাজসুমন, সরকারি এম এম কলেজ, যশোর। এমএ (মাস্টার্স) ১৮তম ব্যাচ। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ।

স্বাআলো/এসএ