অপসরী কন্যা

হে অপসরী কন্যা, তোমার রূপের কী দেবো বর্ণনা
সৌন্দর্যের নেই কোন শেষ,
সারাবিশ্বে তুমি এক মহতী রূপসী
তোমার কান্তিতে মর্ত্য সুরাপায়ী, নাশ হবে বেদনা ক্লেশ।
তোমার লোচনের চাহনিতে ধরাতল মর্ত গভীর বারিধিতে নেমে যায় বন্যা;
আমি দেখিনি তোমার মতো অপসরী কন্যা।

হে লাবণ্যময়ী নন্দিনী, তোমার হাস্যতে ভেঙে যায়
কোটি কোটি আত্নজের অষ্টপ্রহর ও নিশীতের সুপ্তি,
তুমি সীমাহীন অঢ়ল রূপের অধিকারিণী
জ্বেলেছো দিবসরজনীর দীপ্তি।
তোমার সুকেশের দক্ষিণা হাওয়ায় বয়ে যাওয়া তিগ্ম মরুৎ ও নিশ্চল থাকে না;
আমি দেখিনি তোমার মতো অপসরী কন্যা।

হে সুনয়না, তোমার আহবানে প্রবুদ্ধ হবে
শায়িত থাকা কোটি কোটি তনয়,
তুমি সুদর্শনা দুহিতা, তোমার স্পর্শে শিহরিত হবে কিশোর ও যুবক
বিশ্বজুড়ে এক সুরূপা তুমি, তুলনা তোমার নাই।
তুমি রজনীকান্তের মতো উজ্জ্বল, স্বচ্ছ ক্ষণপ্রভার আলোর সাথে করি তুলনা;
আমি দেখিনি তোমার মতো অপসরী কন্যা।

হে সুলোচন কন্যা, তুমি চন্দ্রমার মতো উদ্দীপ্ত
নিশুতির আঁধার করে দাও জ্যোৎস্নাময়,
তোমার রূপে মর্ত্য মাতাল বিবাগী
জগৎস্রষ্টার কাছে উর্ধী চিরঋণী হয়েছো ভবে উদয়।
তুমি মায়াবী, নিরবধি নিষ্পলক চেয়ে থাকে শত শত যুবক তোমার তুলনা হয় না;
আমি দেখিনি তোমার মতো অপসরী কন্যা।

হে রূপিনী কন্যা, তোমার রূপের
মর্ত্য রয়েছে কত ভার,
তোমার নিদাঘ ভালবাসা পাবে যে যুবক
সত্যিই সে হবে বিশ্ব তালেবর।
আমি দেখিনি এমন রূপবতী কন্যা, যার প্রতিমূর্তি
দিবা-নিশি ভাসে দু’নয়নে তবুও ভেবে শেষ হয় না;
আমি দেখিনি তোমার মতো অপসরী কন্যা।

সিরাজসুমন, সরকারি এম এম কলেজ, যশোর। এমএ (মাস্টার্স) ১৮তম ব্যাচ। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ।