প্রস্তুত নড়াইল, আমেরিকা থেকে জিন এক্সপার্ট মেশিন আনলেন মাশরাফি

আসছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। এমন আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই আশঙ্কা থেকে নড়াইলবাসীকে রক্ষা করতে বরাবরের মতো এগিয়ে এসেছেন তারকা ক্রিকেটার, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মোর্তুজা। ইতিমধ্যে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে নড়াইল সদর হাসপাতাল ও লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী ভিত্তিতে করোনাভাইরাস টেস্টের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে উদ্ভাবিত জিন এক্সপার্ট প্রযুক্তির মেশিন স্থাপন করেছেন।

এছাড়া, নড়াইলবাসীকে মহামারী করোনা থেকে রক্ষা করতে নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে কাজ শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে নেয়া হয়েছে বেশকিছু ইতিবাচক উদ্যোগ।

প্রথম ধাক্কা সামলে উঠার আগেই মহামারী করোনাভাইরাস বিশ্বে দ্বিতীয় বারের মতো থাবা বসাতে শুরু করেছে। বাংলাদেশেও এই শীতে আক্রান্তের হার বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকার ইতিমধ্যে দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ ছাড়ও বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আইসোলেশনের জন্য সদর হাসাতালসহ টিটিসি এবং বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে ১৯০টি বেড প্রস্তুত আছে। সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে ২৮ জন ডাক্তার ও ৩২ জন নার্স এবং বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে দুইজন ডাক্তার ও ছয়জন নার্স সব সময় প্রস্তুত আছেন। ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে তিন হাজার ২৩৬টি এবং বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে ১২টি মজুদ আছে। জরুরি প্রয়োজনের জন্য সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে একটি এবং বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নড়াইল পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর বিশ্বাস জানান, নড়াইল পৌরসভা প্রথম থেকেই করোনা ভাইস সংক্রামন প্রতিরোধে সাধারণ জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। করোনা মহামারি দ্বিতীয় ঢেউ যাতে প্রভাব না ফেলতে পারে সেজন্য ইতিমধ্যে জনগণের মাঝে দুই হাজার মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। সাথে সাথে রাস্তা জীবানুমুক্ত করার জন্য জীবানুনাশক ছিটানোর কাজ অব্যহত রয়েছে। জনগণকে সজাগ করতে প্রচার-প্রচারণা, মাইকিং, লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু জানান, সরকারিভাবে নির্দেশনা মেনে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সজাগ করা জন্য জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতিটি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের ও দলীয় নেতা কর্মিদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন আব্দুল মোমেন বলেন, জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের টেনিংয়ের পাশাপাশি দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সব হাসপাতালসহ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ‘নো মাস্ক নো এন্ট্রি’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন, আমাদের নড়াইল অনেক ভাল আছে, তারপরও আমরা শঙ্কিত। যে কোন সময় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এর ধাক্কায় আমরা বিধ্বস্ত হতে পারি। এ ধাক্কা সামলাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ, সংস্থাপন মন্ত্রনালয় ও বিভাগীয় কমিশনার এবং সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মোর্ত্তুজার নির্দেশনায় আমরা সরব আছি। নড়াইল জেলার সাধারণ জনগণকে করোনাভাইরাসের আক্রমন থেকে রক্ষা করতে জেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্র্ডে কমিটি গঠন করা আছে। আমরা নিয়মত মোবাইল কোট পরিচালনা করছি, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ও পাবলিক প্লেসে জনচেতনতামূলক প্রোগ্রাম করছি। বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করছি। তবে অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। করোনা মোকাবেলায় মূল অস্ত্র হচ্ছে মাস্ক পরিধান করা, সামজিক দূরত্ব বজায় রাখা। যদি আমরা এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে ইনশাল্লাহ আমরা করোনার দ্বিতীয় ঢেউ থেকে মুক্তি পাবো।

স্বাআলো/ডিএম