চুয়াডাঙ্গায় নৌকার মনোনয়ন যুদ্ধে তিন নেতা, কে হাসবেন শেষ হাসি?

চুয়াডাঙ্গা: নির্বাচন কমিশনারের ঘোষিত প্রথম ধাপের ২৫টি পৌরসভা নির্বাচনের জন্য ইতিমধ্যে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার জন্য তফসিল ঘোষণা হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী ১ ডিসেম্বর প্রনোনয়নপত্র জমা, ৩ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাই ও ১০ ডিসেম্বর মনোয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে । ভোট গ্রহণ হবে আগামী ২৮ ডিসেম্বর। আসন্ন এই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগের তিন নেতা ইতিমধ্যে প্রাথমিক যোগাযোগ সেরে ফেলেছেন।

দেশের বৃহৎ পৌরসভাগুলোর একটি চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের মেয়র নির্বচিত হওয়ার রেকর্ড আছে। তবে আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির এখনো কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি । তবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের  বর্তমান মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু, সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শরিফউদ্দীন দুদু প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

তবে তিনি নেতা মাঠে থাকলেও দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, নৌকার মনোনয়ন নিয়ে মূল লড়ায়ে আছেন ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু ও রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন।

বর্তমান মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু গত নির্বাচনে মোবাইল প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটনকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন।

তিনি বলছেন, নির্বাচিত হয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় ব্যাপক উন্নয়নমুলক কাজ করেছি। আমার সময়ে আর্সেনিকমুক্ত শোধনাগার স্থাপন হয়েছে। যার পানির কারণে চুয়াডাঙ্গাবাসী বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছেন। ৩৭ জেলা অবকাঠামো প্রকল্প, ইউজিআইপি-৩ ও গুরুত্বপূর্ণ শহরের ১০০ কোটি টাকার উন্নয়নের ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আমি মনে করি দেশে যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে চুয়াডাঙ্গা তারই ধারাবাহিতকার অংশ। আমার পরিকল্পিত কাজের বাকি কাজ শেষ হলে চুয়াডাঙ্গার শুধু সৌন্দর্যই বৃদ্ধি পাবে না,  রীতিমত দৃশ্য বদলে যাবে। আমি আশাবাদী, বাকি কাজ শেষ করতে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ দিবেন।

এদিকে, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দারের ভাই ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটনও মাঠে আছেন। তিনি সাবেক মেয়র। তিনি চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায়ও অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। এরই মধ্যে তিনি ৯টা ওয়ার্ডে কর্মীসমাবেশ করেছেন । তাছাড়া সাংবাদিক, ব্যাংকার , শিক্ষক, ব্যবসায়িক, দোকান মালিক সমিতি, মৎস্যজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সাথে মতবিনিময় করেছেন।

তিনি বিভিন্ন মতবিনিময়ে বলেছেন, তিনি পুনরায় নিবার্চিত হলে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকারচিত্র পাল্টিয়ে দেবেন। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় যতটুকু কাজ হয়েছে সেটা তার সময়ের প্রকল্পের কাজ। পৌর মেয়রের ব্যর্থতার জন্য অনেক প্রকল্প ফেরৎ গেয়ে।  ‍তিনি আরো বলেন, আমার প্রতি পৌরবাসীর সমর্থন আছে। এর প্রমান আমি দিয়েছি অতীতেও। ইতিপূর্বে আমি পৌরবাসীর ভোটে নির্বাচিত মেয়র ছিলাম। মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী ।

স্বাআলো/ডিএম