করোনায় গামছা শিল্পীদের স্বপ্ন ভেঙে গেছে

বলা যায় হাড় কাঁপানো শীত। তবুও বন্ধ করছেন না তাঁত চালানো। এমনই সংগ্রাম করে জীবিকা নির্বাহ করছেন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কালিনগর তাঁতপল্লীর ৩০টি দরিদ্র পরিবার। সল্প পুঁজি নিয়ে নিজেদের উদ্যোগেই গামছা তৈরি করছেন তারা। আর তা ব্যাপারীরা নিয়ে পাইকারি দরে বিক্রি করছেন মাগুরার হাটবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। কিন্তু করোনাকালে অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানান তারা । থেমে গেছে তাদের জীবনের চাকা। ভেঙে গেছে অনেক স্বপ্ন। তবুও হাল ছাড়েননি সেইসব মেহনতি খেকে খাওয়া মানুষ। বারবার চেষ্টা করছেন সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার।

কালিনগর তাঁতপল্লীতে প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে গামছা তৈরির তাঁত। এসব পরিবারের বেশিরভাগই হতদরিদ্র। সেখানে গামছা তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছেন নারীরা। গামছা তৈরির জন্য একদিকে সুতায় মাড় দিয়ে রঙ মিশিয়ে চরকার মাধ্যমে সুতা প্রস্তুত করা হচ্ছে। অন্যদিকে কাঠ ও বাঁশের তৈরি তাঁতের মেশিনে বুনা হচ্ছে গামছা। এইসব গামছা তৈরির মূল কাজটা বাড়ির মহিলারাই করে থাকেন। বাড়ির পুরুষরা কৃষিসহ অন্যান্য কাজে করার পাশপাশি মাঝে মধ্যে তাদের সহযোগিতা করে থাকেন। তাদের একটি বিশেষ সুবিধা হচ্ছে গামছা বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে যেতে হয় না। ব্যাপারীরা প্রতিসপ্তাহে তাদের বাড়িতে এসে গামছাগুলো নিয়ে যাচ্ছেন।

তাঁতপল্লীর গামছা তৈরিতে ব্যস্ত হাজেরা খাতুন, ভানু বেগম, ছবেদা খাতুনসহ অনেকে জানান, গামছা তৈরিতে ব্যাপক পরিশ্রম করতে হয় তাদের। লাভ হয় সামান্য। তবুও ঐতিহ্যবাহী তাঁতের তৈরি গামছার বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় এসব পরিবার দীর্ঘ দিন ধরে পেশা হিসেবে গামছা তৈরি করছেন। সুতা ও রঙ মিলে তাঁতে একটি গামছা তৈরিতে তাদের খরচ হয় ৭০ থেকে ৮০ টাকা। প্রতিটি গামছা বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১২০ টাকা। একটি গামছায় তাদের লাভ থাকে ২০ থেকে ৩০ টাকা। একদিনে একটি তাঁতে চারটি গামছা তৈরি হচ্ছে। সে হিসেবে প্রতিদিন ৩০টি তাঁতে ১২০টি গামছা তৈরি হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে তৈরি হচ্ছে ৮৪০টি।

বর্তমানে সুতা ও রং এর দাম বেড়েছে। একারণে গামছা তৈরিতে খরচও বেড়ে গেছে। ২০ গোছার এক বাল্ডিল সুতার দাম এখন ১ হাজার ৮০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। কিছু দিন আগেও এর দাম ছিল ১হাজার ২০০ থেকে দেড় হাজার টাকা। সল্প পুুঁজি নিয়ে তারা গামছা বুনছেন। গামছা বিক্রির সামান্য লাভের টাকা দিয়ে তারা সংসারের ব্যয় নির্বাহের পাশপাশি ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া খরচ বহন করছেন। এ কারণে তাদের দাবি সরকারি ভাবে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করলে তারা আরো ভালো ভাবে গামছা তৈরি করে আয় রোজগার বাড়াতে পারবেন।

কালিনগর তাঁতপল্লীতে গামছা কিনতে আসা ব্যাপারী মতিয়ার রহমান ও নাসির হোসেন জানান, এখনও বাজারে তাঁতের গামছার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এখানে তৈরি গামছা মাগুরা জেলার বাজারের পাশপাশি ফরিদপুর, রাজবাড়িসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।