গরীবের হক ভাগিয়ে নিলেন সফল উদ্যোক্তা ও শিক্ষিকা দম্পতি

গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর চরখালী গ্রামের জাকির হোসেন মধুর নামে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের সরকারি ঘর বরাদ্দ করা হয়েছে। যদিও তারই বাড়ির আশপাশে অসংখ্য পরিবার ভাঙা ঘরে বসবাস করছেন।

জানা যায়, পৈত্রিক ও ক্রয় সূত্রে পাঁচ একরেরও বেশি জমির মালিক জাকির হোসেন মধু। বিশাল আকারের কয়েকটি পানের বরজ রয়েছে তার। খামারে রয়েছে ২০টি গরু। তার স্ত্রী মরিয়ম বেগম গোলখালী এলেমাবাদ দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী মৌলভী হিসেবে চাকরি করছেন। তিনি নিজেই এলাকার নিজেকে কোটিপতি হিসাবে দাবি করেন।

এমন একজন বিত্তশালী ত্রাণের ঘর পাওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে নৈতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মৃত আব্দুস সাত্তার সিকদারের স্ত্রী শাহানারা বেগম, মৃত তাজেম আলী সিকদারের স্ত্রী আলেয়া বেগম, রহিম উদ্দিন, মহিউদ্দিন, বিধবা সালেহা বেগম, রানী বেগম, মোতাহার বেড়িবাঁধে ঝুপড়ি তুলে বসবাস করছেন। ঝুপড়ি ঘরে পরিবার পরিজন নিয়ে এক প্রকার মানবেতর জীবনযাপনই করছেন তার। অথচ এদের ঝুপড়ির সামনেই গরীবদের জন্য সরকারের দেয়া সুশোভিত ঘর বিত্তবান জাকির হোসেন মধুর দখলে।

গলাচিপা সদর ইউপি সদস্য আতিকুর রহমান হিরন বলেন, জাকির হোসনে মধু বিত্তবান। নিজেকে তিনি এলাকার কোটিপতি হিসাবে দাবি করেন। সরকারি বিধি অনুযায়ী গৃহহীনদের পুনর্বাসনের ঘর তাকে কিভাবে বরাদ্দ করা হয়েছে আমাদের তা জানা নেই।

গলাচিপা ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাদী বলেন, ধনী হয়েও মধু কিভাবে গৃহহীনদের আবাসন সুবিধার ঘর পেয়েছে তা আমি জানি না।

জাকির হোসন মধুর মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি কথা না বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, এ পর্যন্ত গরীবের আবাসন সুবিধার জন্য উপজেলায় ৭২টি ঘর তুলে দেয়া হয়েছে। কোন অনিয়ম হলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্বাআলো/ডিএম