মাস্ক ব্যবহারে সাধারণ মানুষের অসচেতনতা

মকবুল হোসেন

করোনা ভাইরাস আবারো চোখ রাঙাতে শুরু করেছে। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম আঘাত সামাল দেয়ার আগেই নতুন করে দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হেনেছে। বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যেই করোনাভাইরাস শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। বাংলাদেশেও এই সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক আগেই তাঁর বিভিন্ন বক্তৃতায় করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ সম্পর্কে বার বার সতর্ক করেছেন। তিনি করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ ও নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য করোনা হাসপাতাল প্রস্তুত, চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের সুরক্ষার জন্য সব ধরণের উদ্যোগ নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্ফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তাঁরা করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে ইতোমধ্যেই সবধরনের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

দেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও সাধারণ জনগণের মধ্যে দিনদিন অসচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার ঘরের বাইরে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করলেও অধিকাংশ লোক মাস্ক ব্যবহার করার প্রয়োজনটুকুও অনুভব করছেন না। সরকারের নির্দেশে প্রশাসন মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি ভ্রাম্যমানণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবু জনগণের মধ্যে সচেতনতার অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

যুক্তরাস্ট্র,যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যেই করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাত শুরু হয়ে গেছে। কারোর আঘাত মোকাবেলার জন্য এই সমস্ত দেশে আবার লকডাউন এবং কোন কোন দেশে রাতের বেলায় কারফিউ জারি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া সেখানে মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব মানা নিশ্চিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে। এখন করোনা রোগীর শনাক্তের হার ও সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মৃত্যুর সংখ্যা ও বাড়ছে যা উদ্বেগজনক।

এই অবস্থায় কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে করোনা সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। বাড়ির বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দুরত্ব তথা স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন বিকল্প নেই। অসচেতন ব্যক্তিদের মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দুরত্ব মানতে বাধ্য করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে জনগণকে বাধ্য করা না হলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব হবেনা। যেসব স্থানে জনসমাগম ঘটে বিশেষ করে হাট বাজার, শপিংমল এবং মসজিদগুলোতে ঘনঘন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জেল জরিমানা করতে হবে। তাহলে তারা বাধ্য হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে।

এই সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই মরণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কিছুটা হলেও রোধ করা সম্ভব। এর পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক প্রাচরণা অব্যাহত রাখতে হবে। করোনা ভাইরাস মোকাবেলার দায়িত্ব একা শুধু সরকারের নয়। জনগণকেও এই মরণ ঘাতি করোনা ভাইরাস মোকাবেলা এগিয়ে আসতে হবে।

লেখক: প্রবীণ সাংবাদিক ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সমাপাদক

স্বাআলো/আরবিএ