শোকের সাগরে ভাসছে পুরো ফুটবল বিশ্ব

কিংবদন্তির মহাপ্রয়াণ। হঠাৎ এভাবে চলে গেলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা, বিশ্বকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে! আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির আকস্মিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না বিশ্ববাসী।

কদিন আগেই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে ভর্তি হয়েছিলেন মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে। ম্যারাডোনার তো নতুন জীবন শুরু হওয়ার কথা ছিল। সেই তিনি সবাইকে কাঁদিয়ে চলে যেতে পারলেন!

ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলিতে ১৯৮৪ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত প্রায় সাত বছর খেলেছেন ম্যারাডোনা। কিংবদন্তির এমন বিদায়ে শোকাহত তার ক্লাব। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘শহর ও ক্লাবের জন্য অনেক বড় এক ধাক্কা। আমরা শোকাহত। মনে হচ্ছে একজন মুষ্টিযোদ্ধা ছিটকে গেলেন। আমরা স্তম্ভিত। সবসময় আমাদের হৃদয়ে থাকবে, দিয়েগো।

সর্বকালের সেরা ফুটবলারের দৌড়ে ম্যারাডোনার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ধরা হয় যাকে, সেই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে মৃত্যুর সংবাদ শোনার পরই টুইটারে সংক্ষিপ্ত এক বার্তায় বলেন, ‘কী কষ্টের সংবাদ। আমি অসাধারণ এক বন্ধুকে হারালাম আর বিশ্ব হারাল একজন কিংবদন্তিকে। অনেক কিছু বলার রয়ে গেছে, তবে এই মুহূর্তে ঈশ্বর তার পরিবারের সদস্যদের শক্তি দিন। একদিন, আশা করি, আমরা একসঙ্গে স্বর্গে ফুটবল খেলব।’

১৯৬০ সালের ৩০ অক্টোবর বুয়েন্স আয়ার্স রাজ্যের একটি শহর লেনাসের এভিটা হাসপাতালে জন্ম নেয়া দিয়েগো ম্যারাডোনা ফুটবল ইতিহাসে হ্যান্ড অব গড কিংবা গোল অব দ্য সেঞ্চুরি, দুটোরই কারিগর। পুরো ক্যারিয়ারে চারটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে খেলেছেন দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল। বয়সভিত্তিক দলেও তার প্রতিভার দুত্যি দেখেছে ফুটবল বিশ্ব। ছোটদের বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদও আছে তার ঝুলিতে। ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের তিনি ৯১টি ম্যাচে ৩৪টি গোল করেন। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ‘ঈশ্বরের হাত’ খ্যাত গোল করেছিলেন ম্যারাডোনা। সে ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলে ছিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকার।

ফুটবলের এই মহানায়কের মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর স্মৃতিচারণ করে টুইটারে লিনেকার লিখেছেন, ‘আর্জেন্টিনা থেকে খবর এল ম্যারাডোনা আর নেই। আমার প্রজন্মের সেরা ফুটবলার। তর্কহীনভাবে সর্বকালের সেরা। অবশেষে ‘ঈশ্বরের হাতে’ নিজেকে সপে দিয়ে শান্তি হয়তো পাবে।’

ম্যারাডোনার মৃত্যুর খবরটি যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না আর্জেন্টিনার ১৯৭৮ বিশ্বকাপ জয়ী কোচ সেসার লুইস মেনোত্তি। তিনি লিখেছে, ‘আমি বিশ্বাস করতে পারছি না, ভীষণ কষ্টের। ম্যারাডোনার মৃত্যুতে আমি বিধস্ত।’

শোকাহত আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ক্লাওদিও তাপিয়া জানিয়েছেন কিংবদন্তির প্রতি শ্রদ্ধা। আমাদের কিংবদন্তির মৃত্যুতে আমরা গভীর শোকাহত, দিয়েগো আর্মান্দো ম্যারাডোনা। সবসময় তুমি আমাদের হৃদয়ে থাকবে।

পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেলেও ম্যারাডোনা সবার মাঝে অমর হয়ে থাকবেন বলে মনে করেন বার্সেলোনা ও আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। তিনি লিখেছেন, ‘সকল আর্জেন্টাইন এবং ফুটবলের জন্য অত্যন্ত দুঃখের দিন। তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন, কিন্তু রয়ে যাবেন চিরদিন, কারণ দিয়েগো অমর। তার সঙ্গে থাকা সব সুন্দর মুহূর্তগুলোকে আমি ধরে রাখি। তার পরিবারের ও বন্ধুদের প্রতি আমি সমবেদনা জানাই। শান্তিতে ঘুমান।’

পর্তুগাল এবং জুভেন্টাসের ফুটবল সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, আজ আমি একজন বন্ধুকে বিদায় বলছি আর বিশ্ব বিদায় বলছে চিরায়ত এক প্রতিভাকে। আমাদের সময়ের অন্যতম সেরা একজন। অতুলনীয় এক জাদুকর। তিনি একটু তাড়াতাড়িই চলে গেলেন। কিন্তু রেখে গেলেন অগণিত ভক্ত। এ শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। ওপারে ভালো থাকবেন। আপনাকে কখনও ভুলব না।’ ম্যারাডোনার দেশ আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন টুইটারে শোক জানিয়েছে এভাবে, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ক্লদিও তাপিয়ার মাধ্যমে আমাদের কিংবদন্তি দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনার মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আপনি সবসময় আমাদের হৃদয়ে থাকবেন।

স্বাআলো/আরবিএ