মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আলী যাকেরকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব, অভিনেতা, মুক্তিযোদ্ধা আলী যাকেরকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানানো হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে তার মরদেহ নেয়া হলে তাকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘গার্ড অব অনার’ দেয়া হয়।

শুক্রবার সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আলী যাকের। পরে সকাল ১১টার দিকে তার মরদেহ নেয়া হয় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে।

দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণের এই প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণে বহু শ্রম, ঘাম দিয়েছেন আলী যাকের। ছিলেন একজন ট্রাস্টি। ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি যুক্ত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে। সেখানেই কৃতি এই সন্তানকে শ্রদ্ধা জানালো রাষ্ট্র।

এ কিংবদন্তির মরদেহ শুক্রবার বাদ আসর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

১৯৪৪ সালের ৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের রতনপুর ইউনিয়নে জন্ম নেয়া আলী জাকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এ সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের সাথে যুক্ত হন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে শব্দ সৈনিক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি আট নম্বর সেক্টরে করেন যুদ্ধ।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের আরণ্যক নাট্যদলের হয়ে মামুনুর রশীদের নির্দেশনায় মুনীর চৌধুরীর কবর নাটকটিতে প্রথম অভিনয় করেন। ওই বছরের জুনে আতাউর রহমান ও জিয়া হায়দারের আহ্বানে নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ে যোগ দেন। ওই দলে তিনি আতাউর রহমানের নির্দেশনায় বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন, যার প্রথম মঞ্চায়ন হয়েছিল ওয়াপদা মিলনায়তনে ।

১৯৭৩ সালে নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ে তিনি প্রথম নির্দেশনা দেন বাদল সরকারের বাকি ইতিহাস নাটকে, যা ছিল বাংলাদেশে প্রথম দর্শনীর বিনিময়ে নাট্য প্রদর্শনীর যাত্রা।

স্বাআলো/এসএ