করোনা ভ্যাকসিন বিনামূল্যে প্রাপ্তির প্রত্যাশা

বাংলাদেশ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি-জুনের মধ্যে দু’টি ভ্যাকসিন তৈরিকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৯ কোটি ৮০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পেয়ে যাবে। ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠান দু’টির সাথে চুক্তি হয়েছে। এই ভ্যাকসিন দু’ডোজ করে ৪ কোটি ৯০ লাখ মানুষের শরীরে পুশ করা যাবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (এম আই এ) মুখপাত্র ও মহাপরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, প্রথমাবস্থায় তিন শতাংশ মানুষকে করোনা ভ্যাকসিন পুশ করা হবে। এদের মধ্যে থাকবে ফ্রন্ট লাইনার অর্থাৎ যারা করোনা রোগীর চিকিৎসা করেন ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ান। এছাড়া সোশাল কেয়াররা ও সিনিয়র সিটিজেন। আরো থাকবে ক্রোনিয়া ও হার্ট ডিজিজে আক্রান্ত রোগীরা। কারণ সিনিয়র সিটিজেন ও হার্টের রোগীরা করোনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঝুঁকিতে রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ২০ শতাংশ লোককে করোনা ভ্যাকসিন পুশ করা হবে।

যে দু’টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে করোনা ভ্যাকসিন নেয়ার চুক্তি করা হয়েছে সে দু’টি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে, গ্যারি ও সিরাম ইন্সটিটিউট। দুই ডোজ করোনা ভ্যাকসিনের বাজার মূল্য হবে, ৪ মার্কিন ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৫০ টাকা।

এই ভ্যাকসিন সরকার বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে ডা. হাবিবুর রহমান জানান, এখনো তেমন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এখন পর্যন্ত যত টিকা দেয়া হয়েছে সবই বিনামূল্যে জনগণের মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে। সরকার ইচ্ছা করলে করোনা ভ্যাকসিনও বিনামূল্যে জনগণের মধ্যে সরবরাহ করতে পারবে। এখনো সরকারি সিদ্ধান্ত না হলেও আশা করা যায় সরকার বিনামূল্যে করোনা ভ্যাকসিন জনগণকে সরবরাহ করবে।

বর্তমান সরকারের সব কাজই জনগণের কল্যাণে নিবেদিত। করোনাকালীন সময়ে মানুষ বাঁচাতে সরকারের জনকল্যাণধর্মী কর্মসূচি বেশিমাত্রায় দৃশ্যমান হয়েছে। করোনা প্রণোদনা তার মধ্যে অন্যতম, যা এখনো চলমান। এতে প্রত্যাশা করাই যায় করোনা ভ্যাকসিন বিনামূল্যে পাওয়া যাবে।

লেখক: প্রবীণ সাংবাদিক ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক

স্বাআলো/আরবিএ