ডাকাতের ভয়ে যমুনায় ঝাঁপ, তিনদিন পর তিনজনের লাশ উদ্ধার

জামালপুরের সরিষাবাড়ীর নরপাড়ায় ডাকাতের হামলা থেকে বাঁচতে যমুনায় ঝাঁপ দেয়া নিখোঁজ তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার তিন দিন পর আজ রবিবার বিকেলে তাঁদের লাশ পাওয়া যায়। এ সময় স্বজনেরা যমুনার তীরে আহাজারি করেন।

উদ্ধার হওয়া লাশ তিনটি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের নিকুনাপাড়া গ্রামের ফজল মণ্ডল (৩৫), গোপালপুরের সাখারিয়া গ্রামের হাফিজুর রহমান খান (৪০) ও সখীপুরের পাখিমারা গ্রামের ছানোয়ার হোসেনের (৩৮)।

ছানোয়ারের স্ত্রী রোজিনা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘হন আমার কী হইব গো। তোমরা আমার স্বামী রে আইনে দাও।

হাফিজুরের স্ত্রী নাসিমা বেগম বলেন, আমার স্বামী লাশ হয়ে ফিরেছে। আমি এর বিচার চাই।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, নরপাড়া এলাকায় যমুনার জেগে ওঠা চরে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর চলছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে সেখানে একদল নৌ ডাকাত হামলা করে। এ সময় হামলা থেকে বাঁচতে জুয়াড়িরা যমুনায় ঝাঁপ দেন। অন্যরা সাঁতরে উঠলেও তিনজন নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে তিনটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

গত শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযানও চালায়। আজ বিকেলে নরপাড়া এলাকায় নদীতে জেলেরা দুটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারে খবর দেয়। খবর পেয়ে লোকজন গিয়ে ছানোয়ার ও ফজলকে শনাক্ত করেন। বিকেলেই গোপালপুরের গোবিনদাশী এলাকায় যমুনা থেকে হাফিজুরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

আরো পড়ুন>>>  ইউপি ভবন থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

সরিষাবাড়ী থানার ওসি আবু ফজলুল করীম বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে মামলা নেয়া হবে।

এদিকে নরপাড়ায় জুয়ার আসর থেকে নিয়মিত টাকা তোলার অভিযোগে শনিবার রাতে তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দুজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন এসআই ইউনুছ আলী ও কনস্টেবল মনির উদ্দিন। তাঁদের পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

প্রত্যাহার হওয়া এসআই ইউনুছ আলী বলেন, রাতেই আদেশ পেয়ে পুলিশ লাইনসে চলে এসেছি।

জানতে চাইলে তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক (তদন্ত) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, প্রশাসনিক কারণে ওই দুজনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে নেয়া হয়েছে।

স্বাআলো/এসএ