বিছানায় বসা অবস্থায় হিজড়ার ঝুলন্ত লাশ, ৩ মাসেও উদঘাটন হয়নি রহস্য

ঝিনাইদহের আলোচিত হিজড়া হত্যার ঘটনায় ৮০ দিন পেরিয়ে গেলেও রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় হতাশায় দিন কাটাচ্ছে তার স্বজনরা। গত ৯ সেপ্টেম্বর সকালে সদর উপজেলার উদয়পুর গ্রামে নিজ ঘর থেকে কারিশমা (৪০) নামে ওই হিজড়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কারিশমার বাড়ি সদর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামে।

কারিশমার বড় ভাই নুরুন্নবী বলেন, উদয়পুর গ্রামে ওই বাড়িতে কারিশমা একাই থাকতো। সম্প্রতি অন্যত্র বাড়ি তৈরি করায় শহরের টার্মিনাল এলাকার কাজল নামের এক জনের কাছে তিনি বাড়িটি বিক্রি জন্য বায়না করেন। ওই বাড়িতে ক্রেতারা গেলে তার নিজ ঘরে লাশ দেখতে পায়।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, বিছানায় বসা অবস্থায় ফ্যানের সাথে ঝুলতে দেখা যায় কারিশমার মৃতদেহ। টাকা ও গহনার কারণে কে বা কারা তাকে নির্মমভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তিনি হত্যার রহস্য উদঘাটন ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

কারিশমার ভাই শরাফত হোসেন বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার অগ্রগতির জন্য সার্বিক সহযোগিতা করা হলেও বিষয়টি সঠিকভাবে আমলে না নেয়ায় মামলার মোটিভ একেক সময় একেক দিকে মোড় নিচ্ছে। যে কারণে কারিশমার হত্যাকারীরা ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। তাই মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তরের জন্য প্রশাসনের উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ ব্যাপারে মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি অপারেশন আবুল খায়ের শেখ বলেন, এটি একটি ক্লুলেস হত্যা। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হত্যা প্রমাণিত হয়েছে। ঘটনার সূত্র ধরে প্রথমেই আলামত জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তথ্য প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে এঘটনার রহস্য উদঘাটনে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি দ্রুতই এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

স্বাআলো/এসএ

.