তিন ফসলি জমিতে অবৈধ ইটভাটা নির্মাণ কাজ বন্ধের দাবিতে লিখিত অভিযোগ

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই ফসলি জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে অবৈধ ইটভাটা। এই ইটভাটা বন্ধের দাবিতে পৃথক দুটি অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী। গত সোমবার জেলার আদিতমারী উপজেলার নামুড়ী টেপাটরী ও পশ্চিম ভেলাবাড়ী গ্রামের সাধারণ কৃষকেরা লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর এই অভিযোগ দুটি দায়ের করেন।

অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করার পর, প্রশাসন কর্তৃক ঐ ইটভাটার কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের নামুড়ি চন্দ্রপুর গ্রামের বারবিষার দোলায় বছরে তিনটি বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে জিবিকা নির্বাহ করে স্থানীয় কয়েক গ্রামের প্রায় শতাধিক কৃষক পরিবার। কৃষকদের চাষাবাদে সেচ সুবিধা দিতে বারবিষার দোলায় একাধিক সেচ পাম্প স্থাপন করেছে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবছর তিনটি ফসল ঘরে তুলে বেশ সুখেই ছিলেন কৃষকরা। কিন্তু আবারও চলতি মাসে সেই বারবিষার দোলার নামুড়ি চন্দ্রপুর গ্রামের দুলাল, মান্নান, সালামের নিকট ১৮ দোন ও কেরামত আলীর নিকট থেকে ৬ দোন (এক দোন= ২৭ শতক) জমি চুক্তিতে লিজ নিয়ে একটি ইটভাটা নির্মাণের কাজ শুরু করেন লালমনিরহাট শহরের নামাটারী এলাকার ইট ব্যবসায়ী এন্তাজ আলী।

পাশ্ববর্তী জমির মালিকদের না জানিয়ে কৃষকদের জমির ওপর ভাটার মাটি ফেলে স্তুপ করেন। ফলে এসব কৃষক চলতি ইরি বোরো চাষাবাদ করতে পারছেন না। ফসলি জমির ওপর ইটভাটা নির্মাণের প্রতিবাদে এবং ভাটাটি বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে স্থানীয় কৃষকরা গত ৩০ নভেম্বর একটি মানববন্ধনও করেন।

নির্মাণাধীন ইট ভাটার পাশের জমির মালিক আব্দুস সালাম জানান, তার ৩১.৫ শতক জমির ওপরে জোর পূর্বক ঐ ভাটার মাটি ফেলা হয়েছে। তাই ইচ্ছা থাকলেও জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেন না। অপর দিকে ভাটা নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় চলতি ইরি বোরো চাষাবাদসহ আগামী দিনে ভাল ফসল পাওয়া নিয়েও শঙ্কিত অন্যান্য কৃষকরা। ভাটার আশ পাশের গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম, মোস্তাফিজার রহমান, আফরোজা বেওয়া, মোহাম্মদ আলীসহ অনেকেই দাবি করেন বারবিষার দোলার জমির ফসল দিয়েই চলে তাদের পুরো পরিবার। ইরি বোরোতে প্রতি শতাংশে এক মণের অধিক ধান ফলে। এমন জমিতে ইটভাটা করায় ভবিষ্যতে ফসলহানীর আশংকাও করেন তারা। অথচ ভাটা মালিক বীরদর্পে আবারও ঐ ভাটার নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন।

কৃষকরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন ফসলি জমি নষ্ট করে কোন কারখানা গড়ে তোলা যাবে না।

নির্মাণাধীন ঐ ভাটার মালিক এন্তাজ আলী জানান, সবেমাত্র ভাটা নির্মাণ করা হচ্ছে। আগুন দেয়ার আগে পরিবেশ অধিদফতরসহ সকল বিভাগের অনুমোদন নেয়া হবে।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্বাআলো/এসএ