সবজি চাষ করে মাগুরার চাষিরা এখন ভালো আছেন

যে দিকে চোখ যায় সেদিকেই সবুজের আবরণে সেজেছে মাঠ। একটু কাছে গেলেই দেখা যাবে সাদা আর গোলাপি রঙের ফুল। আর তাতে সবুজ পাতার সাথে সেজেছে শীতের সবজি শিম। এখনো তার গায়ে শিশির কণা মেখে আছে। কেননা সারারাত শিশিরে স্নান করছে সারা প্রকৃতি। তারই আভাস জানান দিচ্ছে এই সবজি পল্লী। দৃষ্টি নন্দন এ দৃশ্য দেখা যাবে মাগুরা শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে মাগুরা ফরিদপুর মহা সড়কের দু’পাশে রামনগর ও লক্ষ্মীকান্দা গ্রাম দুটিতে।

সবজি ক্ষেতগুলো ঘুরে দেখা গেছে মাটি থেকে সর্র্ব্বোচ তিন ফুট উচ্চতার পাটখড়ি ও বাঁশের মাচা তৈরি করে আবাদ হচ্ছে শিম, উচ্ছে, শসা, করলা লাউসহ নানা ধরনের সবজি। এসব সবজি ক্ষেত গোটা গ্রামটিকেই সাজিয়েছে সবুজের আবরণে। স্থানীয়দের মতে, মাগুরায় সবজি চাষে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন বেলনগর, রামনগর ও লক্ষ্মীকান্দার গ্রামের সবজি চাষিরা। এইসব সবজি ক্ষেতে পুরুষদের পাশাপাশি কাজ করছেন নার্রীরাও। তাদের উৎপাদিত সবজি দক্ষিণ-পশ্চিমা লের অন্যতম বৃহৎ সবজি আড়ৎ মাগুরা কাঁচা বাজারে যায়। অনেক সময় দূরের পাইকাররা ক্ষেত থেকেও সবজি নিয়ে যায়। এ গ্রামের উৎপাদিত বিভিন্ন সবজি মাগুরার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়।

স্থানীয় কৃষক রামচন্দ্র মন্ডল জানান, এক সময় ধান পাট চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। কিন্তু বছর শেষে দেখা যেত জমির সেচ সার ও অন্যান্য উপকরণের মিলিয়ে বিঘা প্রতি যে খরচ হতো তাতে লাভ হতো না। কোন কোন বছর উৎপাদন খরচ পর্যন্ত উঠতো না। যে কারণে অনেক সময় ঋণের টাকা শোধ করতে পারতেন না। তিন বছর আগে ৩০ শতক জমিতে শিমের আবাদ শুরু করেন। প্রথম মৌসুমেই তিনি শিম থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় করেন। এই অধিক মুনাফার কারণে ধান ও পাটের চাষ ছেড়ে তিনি এখন প্রায় চার একর জমিতে আবাদ করছেন উন্নত জাতের নানা সবজি।

বাড়ির কাজের পাশাপাশি সবজি ক্ষেতে কাজ করেন সাধনা রানি বিশ্বাস। তিনি জানান, এক দশক আগেও ধান-পাটসহ প্রচলিত মৌসুমি ফসলের চাষাবাদে সীমাবদ্ধ ছিল তাদের কৃষি কার্যক্রম। কিন্তু এখন দিন বদলেছে। সেই চাষিরাই বারোমাসি সবজি আবাদ করছেন। মৌসুমি শেষে ঘরে তুলেছে লাখ লাখ টাকার ফসল। বদলে ফেলেছেন জীবন যাত্রার মান। আর এ কারণেই অনেকটা লাঘব হয়েছে তাদের অভাব। সবজি আবাদ করে তারা এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো আছেন।

স্বাআলো/আরবিএ

.

Author