ভাস্কর্য বিরোধীরা বাংলাদেশকে বাংলাস্তান বানাতে চায়

মকবুল হোসেন: ভাস্কর্য আর মূর্তি এক জিনিস নয়। ভাস্কর্য শিল্পকলার একটি মাধ্যম। ভাস্কর্য ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক এবং বাহক। ভাস্কর্য কোন জাতির ইতিহাস-কৃষ্টি-সংস্কৃতি বহন করে। আর কিছু মানুষ মূর্তিকে ভগবান-ঈশ্বর মনে করে পূজা করেন। তারা মূর্তিকে ক্ষমতার আধার মনে করেন।

ভাস্কর্য আর মূর্তি এক কথা নয়। তাই যদি না হতো তাহলে সৌদি আরব, পৃথিবীর বৃহত্তম মুসলিম রাস্ট্র ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইরাক, মিশর, সিরিয়া, কাতার, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, আলবেনিয়া ও লেবাননসহ পৃথিবীর অন্যান্য মুসলিম রাস্ট্রে বিভিন্ন রাস্ট্রনায়ক, কবি, স্থপতি, বীর মুসলিম ধর্মীয়নেতা ও পশুপাখির ভাস্কর্য নির্মাণ করা হতো না। ভাস্কর্য যদি মূর্তিই হতো তাহলে ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলন গড়ে উঠতো। ভেঙ্গে ফেলা হতো সব ভাস্কর্য।

অথচ বাংলাদেশের এক শ্রেণির আলেমদের কাছে ভাস্কর্য হয়ে গেছে মূর্তি। মামুনুল-ফজলুল করিমরা উত্তর দিতে পারবেন কেন মুসলিম রাস্ট্রগগুলোতে মসজিদের সামনে ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্যগুলো শোভা পাচ্ছে? উত্তর দিতে পারবেন কেন তা আজও অপসারণ কারা হয়নি? কারণ এগুলো মূর্তি নয় ভাস্কর্য। অথচ আমাদের  দেশের কতিপয় আলেমের একটাই কথা ভাস্কর্য আর মূর্তি এক, এগুলো ইসলাম বিরোধী।

তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশের আলেমরা কোরআন-হাদিস সম্পর্কে বেশি জানেন, বেশি বোঝেন? আমাদের দেশের আলেমরা বেশি শিক্ষিত ও বেশি জ্ঞানী। আর অন্য দেশের আলেমরা অশিক্ষিত ও কোরআন হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান সীমিত।

সত্য অন্যখানে নিহিত। আমাদের দেশের আলেমরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ভাস্কর্য ও মূর্তিকে এক করে ভাস্কর্য বিরোধী কথা বার্তা বলছেন। আজ যারা ভাস্কর্য বিরোধী কথা বলছেন তাদের পিতারা ‘৭১ সালে স্বাধীনতা বিরোধী ছিলেন।

ইসলাম রক্ষার দোহাই দিয়ে পাকিস্তান রক্ষার নামে ধর্ষণ খুন ও লুটপাটে সহযোগিতা করেছিলেন। তারা কখনো বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মানতে পারেননি। তাদের সুযোগ্য সন্তান হিসাবে বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেননি। তাই তারা বিএনপি জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এরা বাংলাদেশকে বাংলাস্তান বানাতে চান। এরা পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলতে অভ্যস্ত। সেই পথেই তারা হাঁটছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির পিতা। তিনিই বাংলাদেশের স্থপতি। বাঙালি জাতির অহংকার। ভাস্কর্যের বিরোধীতার নামে তারা বঙ্গবন্ধুকে অপমান করার ধৃষ্টতা দেখানোর সাহস পাচ্ছে। আজ যারা এই ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

লেখক : প্রবীণ সাংবাদিক ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক

স্বাআলো/এস