ক্ষমতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্বাধীনতার ডাক দেন বঙ্গবন্ধু: এমপি নাবিল

যশোর: মুজিববর্ষ উপলক্ষে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে আট দিনব্যাপী ‘গণহত্যা নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার শিক্ষাবোর্ডের হলরুমে এই প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ।

 গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টের সভাপতি প্রফেসর ড. মুনতাসীর মামুনের সভাপতিত্বে কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশের জন্য তার যৌবন উৎসর্গ করেছিলেন। নিজের আরাম-আয়েশ পরিহার করে সাধারণ মানুষের মুক্তির জন্য অধিকংশ সময় জেলে কাটিয়েছেন। বাংলার স্বাধীনতার জন্য তিনি কোন ক্ষমতার প্রলোভনে পড়েননি। নিজের জীবনের চেয়ে তিনি দেশকে বেশি ভালবাসতেন। তিনি তার আর্দশ থেকে বিন্দুমাত্রও বিচ্যুত হননি। বঙ্গবন্ধু ক্ষমতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। তার একটি ভাষণে লাখ লাখ সাধারণ মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

প্রধান অতিথি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার শতভাগ স্বার্থকতা অর্জন করতে তার কন্যা শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনীতি, স্বাস্থ, শিক্ষাসহ বিভিন্ন সূচকে ভারত, পাকিস্তানসহ অনেক দেশকে পিছনে ফেলেছে। প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র উদ্দেশ্য বাংলাকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় রুপান্তর করা।

এ সময়  গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টের সভাপতি ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. মুনতাসির মামুন বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একমাত্র রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রনায়ক, যিনি অসীম সাহসিকতায় রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিলেন।

অধ্যাপক ড. মুনতাসির মামুন বলেন, বিশ্বে যখন সমাজতন্ত্রের কথা বলা ছিল অপরাধ, ঠিক সেই সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি মূলনীতির একটিতে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। যেটি ছিল সেই সময় অত্যন্ত সাহসিকতার ব্যাপার।

তিনি বলেন, বিশ্বে এ রকম জাতির পিতা খুব কমই আছে, যারা বঙ্গবন্ধুর মতো করে নিজ জাতিকে কিছু উপহার দিতে পেরেছেন। বেশিরভাগই তার জাতির জন্য তেমন বেশি কিছু রেখে যেতে পারেনি। এক্ষেত্রে আমাদের বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবার চেয়ে ব্যতিক্রম। দেশ স্বাধীনের পর তিনি আমাদের জন্য একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার ৯ মাসের মধ্যে এরকম একটি আধুনিক সংবিধান প্রণয়ন ইতিহাসে বিরল।

তিনি আরো বলেন, নতুন প্রজন্মকে সত্যি জানাতে হলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ খুবই জরুরি। ইতিহাস সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা না গেলে স্বাধীনতাবিরোধীরা তা বিকৃত করবেই। সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য স্কুল এবং কলেজ পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তকে বেশি বেশি করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করারও দাবি জানান তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্লা আমীর হোসেন ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শহীদ কাদরী। যশোর শিক্ষাবোর্ডের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ১১০ জন অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষকসহ সাধারণ শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

অতীত ভুলে স্বচ্ছতা ও সমন্বিত কাজের প্রতি গুরুত্বারোপ এমপি নাবিলের

এরপর কাজী নাবিল আহমেদ কচুয়া ইউনিয়নের দেয়াপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চারতলা বিশিষ্ট ভবনের উদ্বোধন করেন।

প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ সদস্য মেহেদী হাসান মিন্টু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সুখেন মজুমদার, জেলা যুবমহিলা লীগের সভাপতি মঞ্জুন্নাহার নাজনীন সোনালী ও প্রধান শিক্ষক শাহাজান আলী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি দাউদ হোসেন দফাদার, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মঈন উদ্দিন মিঠু, সদস্য ওয়াহিদুজ্জামান বাবলু, শহর যুবলীগের আহবায়ক মাহমুদুল হাসান মিলু, সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক মাজহারুল ইসলাম মাজহার, কচুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম জনি, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ সরদার, কচুয়া ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক ইশারত আলী, কচুয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক মুক্ত খান, যুগ্ম-আহবায়ক মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

যশোরের সব উন্নয়নের একমাত্র দাবিদার শেখ হাসিনা: এমপি নাবিল

স্বাআলো/ডিএম

.

Author