ভাস্কর্য নিয়ে কিছু প্রশ্ন

মকবুল হোসেন: ভাস্কর্য আর মূর্তির মধ্যে পার্থক্য খুঁজে না পাওয়ার পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। আর সেই উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য একটি বিশেষ মহল পানি ঘোলা করছে। ৪৯ বছর আগে মীমাংসিত বিষয় নিয়ে একটি বিশেষ মহল আজ আবার নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

১৯৭১ স্বাধীনতা বিরোধী আর আজকের ভাস্কর্য বিরোধী শক্তি এক এবং অভিন্ন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই অপশক্তি ইসলাম রক্ষার নামে পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়িয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। সেদিন এরাই পাকিস্তানিদের সাথে নিয়ে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে ফয়সালা হয়েছিল বাংলাদেশ হবে অসম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক এবং উদার একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।

অথচ আজ বাঙালি জাতির পিতা বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীতে চিহ্নিত সেই সাম্প্রদায়িক ও উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী আবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠার অপচেষ্টা করছে। এরা ভাস্কর্যকে মূর্তি আখ্যা দিয়ে ইতিহাসঐতিহ্যের ধারক ভাস্কর্য ভাঙ্গার পাঁয়তারা করছে। এরা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার দুঃসাহস দেখিয়েছে।

তাদের কাছে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের প্রশ্নঃ সৌদি আরবের রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও পশু পাখির ভাস্কর্য শোভা পাচ্ছে কেন? সেখানে কি শাইখুল হাদিস ও মুফতিরা নেই?

কেন বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম রাস্ট্র ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় রাস্তায় ভাস্কর্য শোভা পাচ্ছে? সেখানে কি কোরআনের সঠিক ব্যাখ্যা দেয়ার মত মুফতি বা আলেম নেই?

কেন ইরানে ধর্মীয় শীর্ষনেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনির বিশাল বিশাল ভাস্কর্যসহ জীবজন্তু ও বিভিন্ন ব্য‍ক্তির ভাস্কর্য বানিয়ে রাখা হয়েছে? কি আছে বলার?

আরো পড়ুন>>>ভাস্কর্য বিরোধীরা বাংলাদেশকে বাংলাস্তান বানাতে চায়

কেন তুরস্কের বিভিন্ন স্থানে আধুনিক তুরস্কের জনক কামাল আতাতুর্কের ভাস্কর্যসহ বিভিন্ন ভাস্কর্য শোভা পাচ্ছে?
এছাড়া মিশর,কাতার, লেবানন,আলবেনিয়ার মসজিদ, রাস্তার মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে কবি সাহিত্যিক ও বিভিন্ন ব্যক্তি এবং পশু পাখির ভাস্কর্য কেন শোভা পাচ্ছে এর উত্তর কে দেবে?

হেফাজত ইসলামের নেতারা এসব প্রশ্নের উত্তর দেন না শুধু নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন। তারা কেবলই ভাস্কর্য আর মূর্তি এক বলে ফতোয়া দিয়ে যাচ্ছেন।

ভাস্কর্য যদি ইসলামে নিষিদ্ধই হতো তাহলে সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিশ্বের সব মুসলিম রাষ্ট্র কেন ভাস্কর্য নির্মাণ করে মসজিদের সামনে রাস্তার মোড়ে মোড়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা, কবি সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ জীব জনোয়ারের ভাস্কর্য স্থাপন করে রাখবে? বলতেই হয় ভাস্কর্য ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যের প্রতীক যা ইসলাম বিরোধী হতে পারে না। শুধু কি আমাদের আলেমরা কোরআন হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন, মুসলিম বিশ্বের মুফতি আলেমরা কোরআন হাদিস সম্পর্কে কোন জ্ঞান রাখেন না ?

লেখক: প্রবীণ সাংবাদিক ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক

স্বাআলো/আরবিএ