কি করে পারলে

কি করে পারলে বলোতো
আমার সুন্দর মুখে আঘাত করতে?
বাসর রাতে তুমিই তো বলেছিলে;
তোমার চাঁদমাখা ও মুখের দর্শনে
আমার সকল ক্লান্তি উবে যায়।

কি করে পারলে বলোতো
কোমল দু-ঠোঁটে আঘাত করতে?
রাতেরা স্বাক্ষী, আদরে আদরে বলেছিলে;
গোলাপের পাপড়িতে মোড়ানো তোমার ঠোঁট
এ ধরনীর সকল মিষ্টতাকে হার মানায়।

কেন চোঁখে চোঁখ রেখে বলেছিলে;
ভালোবাসি ভালোবাসি ওগো তোমাকে
তোমার সমস্ত হৃদয়ে আমন্ত্রিত করো আমাকে
হারিয়েছি নিজেকে প্রেমের আটলান্টিক গভীরতায়
সাত জনমে শুধু তোমাকেই চায়।

কতোশত মিথ্যে বাহানায় তোমার প্রেম নিবেদন
উন্মাদের মতো বিশ্বাস করেছি!
ভাবতেই পারিনি শরীরের ক্ষুধায় তাড়িত তুমি সারাক্ষণ
মিথ্যে প্রেমের অতলে ডুবিয়ে আমাকে
ওপাশে পর রমনীদের রুপ সৌন্দর্যের পদ্মাতে
উষ্ণ ব্যাকুলতায় ব্যস্ত তুমি নিজেকে হারাতে।

প্রথম রাতে আমার শরীরের সৌন্দর্য বর্ণনায়
কতো প্রাণজুড়ানো কাব্যিক কথামালা তোমার মুখে
ভুলে গেছ সব, ভুলিনি কিছুই আমি
নিঃসঙ্গ দিন রজনী কাটে বিরহ বেদনায় আমার
পর ললনায় ব্যস্ত সুখের সময় পার হয় তোমার।
বড্ড প্রেমিক হয়ে গেছ আজ!
নিজের বউয়ের জন্য এতোটুকু প্রেম নেই তোমার হৃদয়ে
কি করে থাকবে! তোমাকে তো আজকাল;
অনেকগুলো প্রেমিকাকে প্রেম দিতে হয়।

প্রেমের প্রশান্ত মহাসগর ছেড়ে দক্ষিণে ঠাঁয় নিলে
বুঝতেই পারনি বোকা স্বামী, প্রেমের মহাসিন্ধু
এই হৃদয় জুড়ে; বহুকাল ধরে স্বযত্নে তুলে রাখা
সেতো শুধু তোমারই জন্য।

তোমার বিরহে, অবহেলা আর নির্যাতনে
মৃত্যুকে বরণ করে যদি ওপারে চলে যায়
এই সমাজ, রাষ্ট্র এবং জনগণ ধিক্কার দিয়ে বলবে;
মেয়েটি ভীষণ বোকা তাই মৃত্যুকে বেছে নিল
কিন্তু কেউ একটিবারের জন্যেও বুঝবে না;
প্রেমের বিরহে আমার জীবন, যৌবন, হৃদয় ও মনের উপর দিয়ে
বয়ে চলা এই সাইক্লোনের গতিবিধি কতো!

লেখক: মোস্তাফিজুর রহমান