খুঁজি তোমায়

আমি আজও এই ফুটন্ত গোলাপের মাঝে
তোমাকে খুঁজি…
যেন প্রতিটি পাপড়ির ভাঁজে
তুমি আছো লুকিয়ে।

আমি ঐ প্রণয়, সমর্পিত ক্ষেত্রের মাঝে
তোমাকে খুঁজি…
যেখানে হস্ত প্রশস্তের মাঝে
তুমি করেছিলে প্রীতি অর্পণ,

অধরোষ্ঠের স্পর্শ দিয়ে মোর চিত্ত দিয়েছিলে রাঙিয়ে…
তোমার অনুরুদ্ধের চাহনিতে আমি অনুবার…
হয়েছিলাম অনুরত-সন্ধিত,
সংস্পৃষ্ট হয়েছিল চিরায়ত সদ্ভাব।

আমি শূন্যলোকে উড়ন্ত বিহঙ্গ দঙ্গলের মাঝে
তোমাকে খুঁজি…
যেন সহস্র সারিকা বেঁধে পক্ষীর মাঝে
তুমি এক পরিচিত শকুন্ত,

আমি দন্ডায়মান, নিষ্পলক নেত্রে চেয়ে থাকি তান পানে…
যদি পথ ভুলে আবার বাসা বাঁধে,
এই আপন নীড়ে।

আমি বিশাল সায়রে বয়ে চলা অন্তহীন ঊর্মি লহরীর মাঝে
তোমাকে খুঁজি…
যেন প্রতিটি কল্লোল, মোরে জানান দেয়,
মোর হৃদয়ের দ্বারপ্রান্তে
তোমার আশার অন্তিম বারতা।

আমি গোধূলিলগ্নে অস্ত যাওয়া
বিশাল আদিত্যের মাঝে
তোমাকে খুঁজি…
যেন এক অষ্টপ্রহর শেষে
আমি ক্ষণিকের জন্য হলেও,
আঁকড়ানো রবো তোমার বাহুডোরে।
মনে হবে যেন জয় করেছি পুরো উর্বীকে।

আমি গভীর জলধারে পড়ে থাকা
অজস্র চূর্ণ-বিচূর্ণ প্রস্তরের মাঝে
তোমাকে খুঁজি…
যেন মনে হয় তুমি চেনা এক পরিপৃক্ত কংকর।
কুঁড়িয়ে নিয়ে রাখি এই হৃদ কোটরে।

আমি বসন্তদূতের মাঝে
তোমাকে খুঁজি…
যেন বিচলিত নিরঞ্জন কণ্ঠে তুমি ডাকছো
আর বলছো, আমি অহর্নিশ রবো তোমার হৃদ মাঝারে।

আমি অসন্দিগ্ধ, আমি প্রহৃষ্ট
তুমি কবে দেবে যথার্থ দেখা এই আমায়…
হে মধুরভাষিণী আমি যে দিবা-নিশি খুঁজি তোমায়।।

 

লেখক: সিরাজসুমন, সরকারি এম এম কলেজ, যশোর। এমএ (মাস্টার্স) ১৮তম ব্যাচ। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ।