রক্তের অক্ষরে লেখা শহীদদের নাম ভেসে গেছে ভ্যালেন্টাইনের জোয়ারে

আসুন ১৪ ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করি। ভালোবাসা-বাসিও হবে, তবে তা কোনভাবেই শরীরবৃত্তীয় না, এই ভালোবাসা প্রতিরোধের জন্য ভালোবাসা। এই প্রতিরোধ আর ভালোবাসার দিনে তরুণ-তরুণীরা হাত ধরাধরি করে রাস্তায় আসুক, প্রতিবাদ করুক। তাই লড়াই-চেতনা জাগরূক রাখতে পুঁজিবাদী মুনাফাসর্বস্ব ভোগবাদে আচ্ছন্ন ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালাবাসা দিবসের নামে ব্যবসায়ীক পসার সাজানোর দিনকে বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক সমাজেও নিষিদ্ধ করা খুব প্রয়োজন।

১৪ ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস, অন্য কিছু নয়। একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক ভূখণ্ডের জন্য এ জনপদের মানুষ বারবার অকাতরে প্রাণ দিয়েছে।

যুগে যুগে সামরিক-বেসামরিক ছদ্মবেশে স্বৈরাচারীরা ক্ষমতা দখল করেছে। জনগণ প্রতিবাদ করলে জুটেছে বেয়নেট, বুট, গুলি, টিয়ারশেল।

এরকমই ১৪ মার্চ ১৯৮২ সালে সামরিক আইন জারি করে ক্ষমতা দখল করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সামরিক আইন জারি করে সংবিধান ও মৌলিক অধিকার স্থগিত করা, রাজনৈতিক নেতাদের ধড়পাকড় শুরু করা এসব বিভিন্ন কারণে তাঁর এ ক্ষমতা দখলকে কোনো রাজনৈতিক দল শক্তভাবে প্রতিরোধ করতে পারেনি।

ছাত্ররা প্রথম থেকেই এরশাদের শাসনক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে বসেন। শুরু হয় প্রতিরোধ আন্দোলন। স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্রদের প্রতিরোধ আন্দোলনে শহীদ জয়নাল,দিপালী, কাঞ্চনসহ নাম না জানা অনেকে শহীদ হয়েছিলেন। এই বীরযোদ্ধাগণ প্রথম শহীদ, এরপর থেকেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠে। গণতন্ত্রের সংগ্রামে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছে।

পশ্চিম থেকে আগত ভ্যালেন্টাইনের জোয়ারে ভেসে গেছে রক্তের অক্ষরে লেখা, এ প্রজন্ম ভুলে যাচ্ছে সেই সব শহীদের নাম। মধ্য ফেব্রুয়ারির ছাত্রবিদ্রোহ আমাদের চেতনায় উপস্হিত থাকা জরুরি। স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চলছে, চলবেই।

লেখক: সুজন বিপ্লব, সাবেক ছাত্রনেতা