চারজনকে হত্যার দায়ে ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড, রায় শুনে কাঠগড়া ভাঙচুর

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার দিয়াডাঙ্গা গ্রামের সুলতান আহমেদের বাড়িতে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলায় এক আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে একজন পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আব্দুল মান্নান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় শুনেই আসামিরা কাঠগড়া ভাঙচুরসহ বিচারককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করেন। পরে পুলিশ তাদের নিবৃত্ত করে কারাগারে নিয়ে যায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পিএসসহ ৪৩ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

মামলার সাত আসামির মধ্যে মমতাজ উদ্দিন, নজরুল ইসলাম মজনু, আমির হামজা, জাকির হোসেন, জালাল গাজি ও হাসমত আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এর মধ্যে জালাল গাজি পলাতক রয়েছেন। আরেক আসামি নাইমুল ইসলামকে খালাস দেন আদালত।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. আব্রাহাম লিংকন, আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. আজিজুর রহমান দুলুসহ পাঁচ আইনজীবী।

২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি ভুরুঙ্গামারী উপজেলার দিয়াডাঙ্গা গ্রামে সুলতান মিয়ার বাড়িতে একদল মুখোশধারী গভীর রাতে প্রবেশ করে। তারা সুলতান মিয়া ও তার স্ত্রী হাজেরা এবং নাতনী রোমানা ও আনিকাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহত সুলতানের ছেলে হাফিজুর রহমান পরদিন ভুরুঙ্গামারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামি মমতাজ উদ্দিনের সঙ্গে ছোট ভাই নিহত সুলতান আহমেদের বিরোধ ছিলো। সুলতান আহমেদকে হত্যার জন্য মমতাজ উদ্দিন বাকি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ৫ লাখ টাকা ও একবিঘা জমি দেয়ার চুক্তিতে ভাড়া করেন।

রায় ঘোষণার পর নিহতদের স্বজন রফিক আহমেদ বলেন, এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা চাই দ্রুত এ রায় কার্যকর করা হোক।

পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. আব্রাহাম লিংকন বলেন, পুলিশ এই মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের পর দ্রুততম সময়ে এ রায় ঘোষণা করা হলো। এই রায়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কাঠগড়া ভাঙচুরের ঘটনাই প্রমাণ করে, তারা কতটা ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও দুর্ধর্ষ।

স্বাআলো/এসএ