শ্রদ্ধা জানাতে চার কিশোরের ১৭ কিলোমিটারের বাইসাইকেল জার্নি

যশোরের ঝিকরগাছার ফুলকানন পানিসারা-হাড়িয়া মোড়ে আজ শনিবার সকাল ১০ টায় ফুল কিনতে দেখা গেছে দশম শ্রেণির ইয়াসির আরাফাত, ৬ষ্ঠ শ্রেণির আরমান হোসেন, এসএসসি পরীক্ষার্থী হাবিবুর রহমান ও ৮ম শ্রেণির ছাত্র সাইফুল ইসলামকে। তারা জেলার মনিরামপুরের কোমলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে তারা দীর্ঘ ১৭ কিলোমিটার পথ বাইসাইকেল চালিয়ে ফুলকানন পানিসারা-হাড়িয়া মোড়ে ফুল কিনতে এসেছে। তারা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে সাড়ে তিনশ টাকার ফুল কিনেছে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে দেশের সর্ববৃহৎ ফুল উৎপাদনকারী জোন বা ফুলের রাজধানী খ্যাত ঝিকরগাছার গদখালী ফুল বাজার অনেকটা চাঙ্গা হয়েছে। করোনার ক্ষত কাটিয়ে প্রায় এক বছর পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন এলাকার ফুলচাষীরা। গত তিনদিনে গদখালী ফুল বাজারে ৬ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। চাহিদা বেশি থাকায় পূর্বের বাজার দর থেকে বেশি দামে ফুল বিক্রি হয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের ফুলচাষীদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা গেছে। আগামিকাল দিনটি ঘিরে গদখালীর আশে পাশে রাস্তার দুইধারে বসেছে ফুলের ভ্রাম্যমাণ হাট।

আজ শনিবার সকালে সরেজমিনে জানা গেছে, বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে গাঁদা ফুল। এ ফুল বিক্রি হয়েছে ৩৫০-৪৫০ টাকা হাজার। যা পূর্বের দাম ছিলো দেড় থেকে ২০০ টাকা হাজার। রজনীগন্ধার প্রতি স্টিক বিক্রি হয়েছে সাড়ে ৯-১১ টাকা, যা পূর্বে ছিলো ৩-৫ টাকা। গ্লাডিউলাস রঙ্গিন বিক্রি হয়েছে ১২-১৫ টাকা, যা পূর্বে ছিলো ৩-৬ টাকা। জারবেরা বিক্রি হয়েছে ৯-১৩ টাকা, যা পূর্বের দাম ছিলো ৬-৮। ফুল বাঁধাইয়ের জন্য কামিনীর পাতা বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা আটি, যা পূর্বে দাম ছিলো ২৫ টাকা। জিপসির আটি বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫০ টাকা। যা পূর্বের দাম ছিলো ২০-২৫ টাকা। তবে পাইকারি বাজারে অনেকটা অবিক্রি ছিলো গোলাপ ফুল।

আরো পড়ুন>>> কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ

বাজারে কথা হয় উপজেলার পানিসারা গ্রামের ফুলচাষী আমিনুর রহমান সরদারের সাথে। তিনি সাত বিঘা জমিতে চায়না গোলাপ, গাঁদা, জারবেরা, গ্লাডিউলাস, চন্দ্রমল্লিকা ও দুই বিঘা জমিতে ঝাউ ফুলের চাষ করেছেন। গত তিনদিনে তিন লাখ ২০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করেছেন তিনি। একই গ্রামের শাহিনুর রহমান জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে জারবেরা, গোলাপ ও চন্দ্রমল্লিকা ফুলের চাষ করেছেন। গত তিদিনে তিনি এক লাখ ১৭ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করেছেন। তাঁদের দাবি মহামারি করোনাভাইরাস ও আম্ফান ঝড়ের ক্ষত কাটিয়ে প্রায় এক বছর পর ফুলের দাম ও চাহিদা কিছুটা বেড়েছে বসন্ত বরণ, ভালোবাসা এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে। ফুল ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম গত তিনদিনে সাড়ে তিন লাখ টাকার ও শামীম রেজা পাঁচ লাখ টাকার ফুল কিনেছেন।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, ঝিকরগাছার গদখালী এলাকায় এক হাজার ৬ শত হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ৭ টি ও পরীক্ষামূলকভাবে আরও ৬-৭ টি জাতের ফুল চাষ হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা এবং আন্তর্জাতিক মাতুভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে শুধুমাত্র গদখালী এলাকাতে প্রায় ১১ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। তাঁর দাবি মহামারি করোনাভাইরাস ও আম্ফান ঝড়ে ক্ষতির পরে এসব দিবস ঘিরে ফুলের চাহিদা বাড়ায় প্রায় এক বছর পর ফুলচাষীদের কিছুটা পুষিয়েছে।

স্বাআলো/আরবিএ