একুশ

একুশ তুমি বছর ঘুরে দর্শন দিলে
সারা বাংলাদেশে,
একুশ তোমায় পেলাম দেখা
বীর বাঙ্গালীর বেশে।

একুশ তুমি সুপ্ত বাঙ্গালীর জাগ্রত করো
ভাষা স্লোগান দিয়ে,
একুশ তুমি নিদাঘ শ্রদ্ধায় দন্ডায়মান
ভাষা শহীদদের নিয়ে।

একুশ তোমার অর্ধনমিত নিশানের তলে
শহীদদের রক্তাম্বর পট্টবাস,
একুশ তুমি অজস্র বিছানো পুষ্পের মাঝে
করেছো বসবাস।

একুশ তুমি শহীদ মিনারের সম্মুখপানে
বিস্তার হওয়া পুষ্পের সমারোহ,
একুশ তোমার মাঝে পরখ করি
সালাম, বরকত, রফিক, শফিকদের রুধির প্রদেহ।

একুশ তুমি মাতৃভাষা আদায়ের
মহান শহীদদের আত্মদানের প্রতীক,
একুশ আজও দেখি তোমার রাজপথে
লহরীর মত শহীদদের লহু চিত্তক।

একুশ তুমি অখিল বাঙ্গালীর হৃদে খচিত
কাঁপিছো সপ্তমসুরে দিবানিশি,
একুশ তোমার মাঝে অনির্বাণ গাঁথা
নবীন, প্রবীণ, পৌঢ় বর্ষীয়সী।

একুশ তুমি সারিকা বেঁধে দাঁড়িয়ে
গাওয়া রবীঠাকুরের জাতীয় সংগীত,
একুশ তুমি শহীদদের প্রতি নিদাঘ
শ্রদ্ধা প্রদর্শনের প্রতীক।

একুশ তুমি রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের তারুণ্যে
নও তুমি পরাহত,
একুশ তুমি “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি”
গাওয়া আলতাফ মাহমুদের সেই সমবেত সংগীত।

একুশ তুমি নও মৌন রজনী
ভাষা সংগ্রামের বিভাবরী,
একুশ তুমি কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের
রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি।।

লেখক: সিরাজসুমন, সরকারি এম এম কলেজ, যশোর। এমএ (মাস্টার্স) ১৮তম ব্যাচ। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ।