মা-বাবা সন্তানের কাছে এখন বোঝা!

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় নজরুল হক চান মিয়া (৬৮) নামে এক বাবাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে তারই ছেলে গোলাম ফারুক। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, উপজেলার টানপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। ওই দিন সকালে ধানের জমিতে পানি দেয়া নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে কথাকাটি হয়। এক পর্যায়ে গোলাম ফারুক বাড়ির উঠান থেকে বাঁশ নিয়ে চান মিয়ার মাথায় আঘাত করে। এতে চান মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রাতে তার মৃত্যু হয়। এদিকে বাবার মৃত্যুর খবর পেয়েছে ফারুক পালিয়ে যায়। চান মিয়ার পুত্রবধূ ডলি আক্তার জানান, তার শ্বশুরকে মাথায় আঘাত করেই ক্ষান্ত হননি ফারুক। প্রচণ্ড মারধরও করে।

হাল আমলে এমন ধরনের অমানবিক খবর প্রায় গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। মা-বাবা সন্তানের কাছে কত বড় বোঝা হয়েছে যে, তাদেরকে একমুঠো ভাত দিতে সন্তানরা বোঝা মনে করছে। বেশি দিনের কথা নয়, নড়াইলে ছেলেরা বাঁশবনে ফেলে দিয়েছিল তাদের মাকে। এ কথাটা শোনাও বোধ হয় পাপ। অনুভুতিপ্রবণ মানুষের চোখে পানি না এসে পারে না। কোন বিবেকে কোন মানসিকতায় ছেলেরা জীবন্ত মাকে বাগানে ফেলে দিয়ে আসলো তা ভেবে পাওয়া কঠিন। বাড়ির ইতর প্রাণিটাকেও তো মরণাপন্ন অবস্থায় বাগানে ফেলে আসা যায় না। অথচ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কুচিয়াবাড়ি গ্রামের শতবর্ষী মা উজলা বেগমের ভাগ্যে এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে।

আরো পড়ুন>>> জনবান্ধব নিরাপদ পানি সরবরাহ কর্মসূচি

বন্য পশুর মধ্যে আর ময়মনসিংহের ওই বৃদ্ধের নরাধম সন্তানের মধ্যে পার্থক্য করা যায় কি? বন্য মা-পশুর বাচ্চাগুলো বড় হয়ে গেলে যে যার মতো এদিক সেদিক চলে যায়। মার ভাগ্যে কি হলো তা আর তারা দেখে না। এটা প্রাকৃতিক বিধান। এ বিধান পশুর জন্য প্রযোজ্য। মানুষের জন্য নয়। কারণ মানুষ আশরাফুল মখলুকাত অর্থাৎ সৃষ্টি সেরা জীব। যারা মানুষের সমাজে বাস করেও পশুর মতো আচরণ করে তাদের এ সমাজে বাস করার কোনো অধিকার থাকা উচিত নয়। বনই তাদের জন্য উপযুক্ত স্থান।

মা-বাবার দোয়া ছাড়া ইহকাল পরকাল কোনো কালেই সন্তানের কল্যাণের আশা নেই। মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেস্ত। ধর্মের এই মর্মবাণী কি তাদের কানে কোনো দিন পৌছায়নি?

দিন দিন পারিবারিক বন্ধন যে ভাবে শিথিল হচ্ছে তাতে এক দিন দেখা যাবে প্রবীণদের দেখার বা সেবা-যত্নের কেউ নেই। এ ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগে প্রবীণদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা উচিত বলে আমরা মনে।

স্বাআলো/আরবিএ