জামায়াত নেতার ভাইকে সমর্থন না দেয়ায় কেশবপুরে লীগের ৪ নেতা বহিষ্কার!

যশোরের কেশবপুরে আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের চার নেতাকে বহিষ্কার করার হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পৌর আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের সাময়িক বহিষ্কার করে।

এর আগে বিকালে পৌর আওয়ামী লীগের এক সভায় তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে তাদের বিরুদ্ধে সংগঠনবিরোধী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার

তবে বহিষ্কারের শিকার নেতারা বলছেন, কেশবপুর পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে জামায়াতে ইসলাম নেতার ভাইকে সমর্থন দিয়ে তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছিলো। তা না করায় দল থেকে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কারকৃত হলেন, কেশবপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান দফাদার, ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল গফুর মোড়ল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক সেলিম খান ও খন্দকার মফিজুর রহমান। তারা চারজনই কেশবপুর পৌরসভা নির্বাচনে ৮নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে কেশবপুর পৌর আওয়ামী লীগের এক জরুরী সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পরে কেশবপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চন্দ্র সাহা এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক আব্দুল গফফার ও যুগ্ম আহবায়ক তরিকুল ইসলাম পৃথকভাবে তাদের সাময়িক বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠান।

বহিষ্কার হওয়া কেশবপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান দফাদার জানান, কেশবপুর পৌরসভা নির্বাচনে ৮নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে তিনিসহ ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি একক প্রার্থী বাছাই করতে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল হালিম বাদে অন্য পাঁচজনকে ডাকা হয়। সেখানে একক প্রার্থীর প্রস্তাব আসলে ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল গফুর মোড়ল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক সেলিম খান ও খন্দকার মফিজুর রহমান তাকে সমর্থন দিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন বলে জানান। কিন্তু দলীয়ভাবে মিজানুর রহমানকে সমর্থন না দিয়ে হাফিজুর রহমানকে আওয়ামী লীগ সমর্থন দেয়। এজন্য তারা চারজন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করে প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। একারণেই তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কার হওয়া আরেকজন ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল গফুর মোড়ল বলেন, কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ সমর্থন দিয়েছেন হাফিজুর রহমানকে। তিনি আওয়ামী লীগ করেন না। তার ভাই জামায়াত নেতা হাফিজুর রহমান ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে পরে ‘আগুন সন্ত্রাসের’ নেতৃত্ব দিয়ে নাশকতার মামলার আসামি হয়েছেন। পরে সেই মামলায় কয়েক মাস জেলও খেটেছেন। আমরা মিজানুর রহমান দফাদারকে সমর্থন দেয়ার প্রস্তাব করেছিলাম। তিনি ১৯৮৪ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। কিন্তু তাকে না দিয়ে একজন জামায়াত নেতার ভাইকে সমর্থন দিতে বলা হচ্ছে। একজন আওয়ামী লীগ কর্মী হিসেবে এমন একজনকে সমর্থন দিতে পারি না। এজন্য দল আমাদের বহিষ্কার করেছে।

স্বাআলো/এসএ