বৃহত্তর যশোরের স্বার্থ রক্ষার দাবিগুলো বিবেচনায় নেয়া হোক

যশোর চির অবহেলিত ও চির বঞ্চিত। অথচ এই যশোর অত্যাধুনিক উন্নত হবার দাবিদার। যুগে যুগে কালে কালে এই যশোর সব দিকে থেকে প্রথম ছিলো। এই যশোর দেশের প্রথম জেলার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত জেলা। এর আগে এই যশোরের রাজ্যের মর্যাদা ছিলো। দেশের প্রথম শত্রুমুক্ত জেলার গৌরবে গৌরাবান্বিত,  তে-ভাগা আন্দোলন, নীল বিদ্রোহসহ গণমানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে প্রতিটি সংগ্রামে বীরোচিত ভূমিকা আজো স্বর্ণাক্ষরে লিখিত রয়েছে। কিন্তু হলে কি হবে। এসব গৌরবের স্বীকৃতি দিতে মনে হয় কারো কারো কার্পণ্য রয়েছে। তা না হলে এই যশোরকে এমনভাবে অবহেলিত রাখার কারণ কি? কেন যশোরের উন্নয়নে কারো মাথা ব্যথা নেই? যশোরকে বিভাগ করার দাবি কোনো অংশে অযৌক্তিক ছিলো না। কিন্তু কেউ এ দাবির প্রতি গুরুত্ব দেননি। অবহেলার কারণে আজ অর্ধ শতাব্দি ধরে এ জেলার বিরাট অংশের মানুষ পানিবন্দি। কিন্তু প্রতিশ্রতি ছাড়া তার কোনো সমাধান হচ্ছে না।

বৃহত্তর যশোরকে আধুনিক করতে মাস ছয়েক আগে ১১ দফা দাবি জানিয়েছিল বৃহত্তর যশোর উন্নয়ন ও বিভাগ বাস্তবায়ন পরিষদ। তাদের দাবিগুলো হলো যশোর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাটে সেতু নির্মাণ ও ঢাকা পশ্চিম অঞ্চল রেল স্টেশনের মাধ্যমে সংযুক্ত করা। যশোরকে পৃথক বিভাগ ঘোষণা ও পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা।

যশোরের ৪টি জেলাকে (নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও যশোর) ৪টি বিশেষ অর্থনৈতিক জোন ঘোষণা করা। ৪টি জেলায় পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, যশোরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত, ফকির লালন শাহ, চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং নড়াইল ও ঝিনাইদহে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা। বেনাপোল স্থলবন্দর আধুনিকায়ন এবং যশোরে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা স্থাপন। ঢাকা-যশোর- বেনাপোল মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ জরুরি ভিত্তিতে সম্পন্ন করা এবং প্রতিটি উপজেলায় হাইটেক পার্ক স্থাপন করা। বৃহত্তর যশোরের ৪ জেলায় আন্তঃজেলা রেল যোগাযোগ স্থাপন এবং সাতক্ষীরা-যশোর রেললাইন বশিরহাটের সঙ্গে সংযুক্তকরণসহ মাগুরা থেকে নড়াইল এবং মাগুরা থেকে ঝিনাইদহ হয়ে মুজিবনগর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা। একইসঙ্গে কালীগঞ্জ থেকে ঝিনাইদহ পর্যন্ত রেল লাইনটি পুনরায় চালু করা। যশোরের ৪ জেলায় অনতিবিলম্বে গ্যাস সরবরাহ করা। যশোরে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণ করা, যশোরে পর্যটন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং পর্যটন করপোরেশনের মাধ্যমে একটি পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণ করা।

আরো পড়ুন>>> যশোর পৌরসভা কি পিটিআই সড়কটির অভিভাবক নয়?

বৃহত্তর যশোর উন্নয়ন ও বিভাগ বাস্তবায়ন পরিষদ যে দাবি তুলেছে তার একটিও বাড়তি কোনো চাওয়া নয়। এই এলাকার সবস্তরের মানুষের হৃদয় উৎসারিত আকুতি। আমরা জানিনে এবারের দাবির ব্যাপারে বরফ গলবে কি না। দাবি উত্থাপনকারী সংগঠনের সাথে আমরাও জোরালো দাবি জানাই বৃহত্তর যশোরের স্বার্থ রক্ষায় আর উদাসিনতা সমর্থনযোগ্য নয়। একটি পাখির দুটি ডানার একটি যদি ভেঙে দেয়া হয় তা হলে ওই পাখিটি আর উড়তে পারে  না। তেমনি একটি দেশের কোনো অংশকে অবহেলিত রেখে উন্নয়নের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না।

স্বাআলো/আরবিএ