চৌগাছায় বাড়িতে ডেকে নিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণ, চুরির অপবাদ দিয়ে মারপিট

চৌগাছা: যশোরের চৌগাছায় টাকা ধার দেয়ার নাম করে নিজ বাড়িতে ডেকে এক সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে (২৫) ধর্ষণের অভিযোগে মিজানুর রহমান (৫৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় মামলা করেছেন ভূক্তভোগী নারী।

মিজানুর রহমান উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বাদেখানপুর গ্রামের বাসিন্দা। ধর্ষণরত অবস্থায় ধরা পড়ে যাওয়ায় ধর্ষকের স্ত্রী-ভাতিজারা ওই নারীকে বেদম মারপিট করে ওই বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। একই সাথে ধর্ষককে পালাতে সহযোগিতা করে তারা। পরে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালীদের নেতৃত্বে মিমাংসার নামে বিচারে ওই নারীকে আবারো মারপিট করে কিছু টাকা হাতে দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়। পরে ওই নারী তার বাবার বাড়ি গিয়ে মা’র সহায়তায় বৃহস্পতিবার চৌগাছা থানায় মামলা করেন।

যশোরে অস্ত্রের মুখে ঘের থেকে মাছ লুট, অভিযোগ মন্ত্রীপুত্রের পোষ্যদের বিরুদ্ধে

মোবাইল ফোনে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান স্বাধীন আলোকে জানান, ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আপনি কি গ্রামেই আছেন? প্রশ্নের সাথে সাথেই তিনি মোবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর রিসিভ করেন নি।

২৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নে গ্রামের নিজ বাড়িতে মিজানুর এই ঘটনা ঘটিয়ে স্ত্রী-ভাতিজাদের সহায়তায় পালিয়ে যান। পরে বৃহস্পতিবার ওই নারী থানায় মামলা করলেও এ রিপোর্ট লেখার সময় শুক্রবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ধর্ষক গ্রেফতার হয়নি।

মামলার লিখিত অভিযোগে ওই গৃহবধূ বলেন, একই গ্রামে আমাদের বসত বাড়ির পশ্চিম দিকে বিবাদী মিজানুর রহমানের বাড়ি। বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল অনুমান ৭.৩০ মিনিটে আমি মোবাইল ফোনে সমিতির কিস্তি দেয়ার জন্য ১ হাজার টাকা ধার চাইলে সে কিছুক্ষণ পরে দিবে বলে বলে জানায়। সকাল অনুমান ১০.১৫ মিনিটে মিজানুরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে আমার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে টাকা নেয়ার জন্য তার বাড়িতে ডাকে। আমি সরল বিশ্বাসে তার বাড়িতে গেলে সে আমাকে ঘরের মধ্যে ডেকে অনেক টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কু-প্রস্তাব দেয়। আমি রাজি না হয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে সে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে আমাকে জোরপূর্বক জাপটে ধরে। অনুমান ১০.৩০ মিনিটে সে আমাকে গ্রামে তার চাররুম বিশিষ্ট দক্ষিণ ভিটার উত্তর দুয়ারী একতলা পাকা বসত ঘরের পশ্চিম পাশের কক্ষে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এসময় আমার ডাক-চিৎকারে তার স্ত্রী মনিবালা বেগম (৪৫) ও মিজানুরের ভাইয়ের ছেলে তারিফ (২০) এসে ধাক্কা দিয়া দরজা খুলে ঘটনা দেখে ফেলে। এসময় তারা আমাকে দোষারোপ করে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারে এবং পরবর্তীতে লোকজন আসিলে তারা আমাকে চুরির অপবাদ দিতে থাকে। আমি লোকলজ্জা ও ভয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কাউকে বলতে পারিনি। এ সময় বিবাদী মিজানুর রহমান কৌশলে ওই স্থান হতে পালিয়ে যায়। আমার ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এসে বিষয়টি শোনে। বিবাদীরা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংশার চেষ্টা করে।

চৌগাছার সব খবর পেতে ক্লিক করুন…

আমার মা ও স্বামী কাজের থেকে বাড়িতে আসলে তাদেরকে ঘটনার বিস্তারিত বলি। পরবর্তীতে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয় স্বজনের সাথে আলোচনা করে মা’কেসহ থানায় এসে অভিযোগ করতে বিলম্ব হলো।

এদিকে এ ঘটনার পর ওই নারীর স্বামী তাকে আর বাড়িতে উঠতে দেননি। পরে তিনি বাবার বাড়ি গিয়ে আশ্রয় নিয়ে মা’কে সাথে করে চৌগাছা থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।

চৌগাছা থানার ওসি (তদন্ত) গোলাম কিবরিয়া বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভিকটিমকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে ধর্ষণ মামলা রেকর্ড হয়েছে।

মামলাটির তদন্তভার থানার এসআই মিজানুর রহমানকে দেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

স্বাআলো/এসএ