বিলুপ্ত হচ্ছে এনটিআরসিএ, শিক্ষক নিয়োগে কমিশন গঠনের কাজ শুরু

অবশেষে শিক্ষক নিয়োগের জন্য জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠনের কাজ শুরু করেছে সরকার। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদরাসা স্তরের বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে আরো স্বচ্ছতা আনতে সরকারি কর্ম কমিশনের আদলে ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন’ গঠন করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’র আলোকে এই কমিশন গঠনের আইনগত কাঠামো তৈরির জন্য ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২৫ মার্চের মধ্যে কমিটিকে কমিশন গঠনের আইনি কাঠামো তৈরি করতে বলা হয়েছে। কমিশিন গঠিত হলে সব শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব পাবে। সরকারি কর্ম-কমিশনের আদলে জাতীয় শিক্ষা কমিশন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ দেবে। বিলুপ্ত হবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।

শিক্ষক নিয়োগে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশে এনটিআরসিএ’র তোড়জোড়

মন্ত্রণালয়ের সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র বলছে, শিক্ষানীতি-২০১০ এর আলোকে আইনের মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসিত সংবিধিবদ্ধ একটি স্থায়ী জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠনের আইনগত কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে আগামী ২৫ মার্চের মধ্যে ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন’ গঠনের আইনগত কাঠামো তৈরি করতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (নিরীক্ষা ও আইন) খালেদা আক্তারকে কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের হিসেবে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব পদ মর্যাদার একজন প্রতিনিধি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের যুগ্মসচিব পদ মর্যাদার একজন কর্মকর্তা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের একজন পরিচালক, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের একজন পরিচালক, মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের একজন পরিচালক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের একজন প্রতিনিধি রাখতে বলা হয়েছে। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব (আইন) এ কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

এর আগে এ কমিশন গঠনে আইনের খসড়া তৈরি করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ এনটিআরসিএকে। তারা খসড়া তৈরি করে গত সেপ্টেম্বরে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। খসড়া তৈরি সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কমিটি গঠিত হবার পর শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রার্থী বাছাই ও সুপারিশ করার দায়িত্ব আর বিদ্যমান এনটিআরসিএর হাতে থাকবে না। কমিশন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ সব পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ দেবে।

জানা গেছে, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আদলে স্থায়ী জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করা হবে। এটি প্রতিষ্ঠিত হলে ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ’ (এনটিআরসিএ) বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তখন সব ধরনের শিক্ষক নিয়োগ দেবে জাতীয় শিক্ষা কমিশন। অর্থাৎ প্রার্থীরা পরীক্ষা দেবেন ও সরাসরি নিয়োগ পাবেন। মেধাতালিকা বা সুপারিশ করার মত প্রক্রিয়া থাকবে না। একই পদ্ধতিতে সম্প্রতি পিএসসি ননক্যাাডারে বিভিন্ন সরকারি স্কুলে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দিয়েছে। বর্তমানে বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় শিক্ষক নিয়োগ দেয় এনটিআরসিএ।

আগে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে এক সময় নৈরাজ্য পরিস্থিতি ছিলো। স্কুল কমিটি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালীদের চাপে শিক্ষক নিয়োগ দিতে হতো। এ নৈরাজ্য বন্ধ করতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) গঠন করা হয়। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে। তবে, এতে আরো স্বচ্ছতা আনতে ও প্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে কমিশন গঠন করা হচ্ছে। এ কমিশন গঠিত হলে এনটিআরসিএ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তখন সব ধরনের শিক্ষক নিয়োগ দেবে জাতীয় শিক্ষা কমিশন।

স্বাআলো/এসএ