চিনিকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল ও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দাবি

রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ, আখচাষিদের ক্ষতিপূরণ, করোনা মহামারিকালে কৃষকদের ঋণ মওকুফ, বহুমুখী পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে শ্রমিকদের সারাবছর কাজ নিশ্চিতকরণ, সহজ শর্তে কৃষকদের ঋণ প্রদান, প্রয়োজনীয় কৃষি সরঞ্জাম প্রদানের দাবিতে রংপুরে জাতীয় কনভেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ রবিবার দিনব্যাপী বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের আয়োজনে রংপুর মহানগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে এই কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়।  কনভেনশনের শুরুর আগে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্লেকার্ড ও ফেস্টুনে হাতে নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ রংপুর প্রেসক্লাব থেকে একটি মিছিল করে করে। মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন ও চিনিকল রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে কনভেনশনে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক মোশাহিদা সুলতানা; বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ; বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন দুলাল, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কার্যপরিচালনা কমিটির সদস্য ফখ্রুদ্দিন কবির আতিক বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আহসানুল হাবীব সাঈদ, আনোয়ার হোসেন বাবলু, আহসানুল আরেফিন তিতু; বাংলাদেশ আখচাষি ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনছার আলী দুলাল, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নীলুফার ইয়াসমীন শিল্পী, চিনিকল শ্রমিক ও আখচাষিদের প্রতিনিধি দুলাল, বাবুল,  আতাউর রহমান, বুলু আমিন, রমজান আলী, শাহীদুর রহমান, আব্দুর সাদেক জিহাদী প্রমুখ।

কনভেনশনে বক্তারা বলেন, সরকার এই করোনা মহামারি কালেও দেশে নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার বদলে রাষ্ট্রীয় শিল্প ধংসের এক উন্মত্ত খেলায় মেতে উঠেছে। দেশের ৬টি চিনিকল বন্ধ করেছে সরকার। বন্ধের কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে এ খাতে সরকার লোকসান গুনছিল। কিন্তু লোকসানের প্রকৃত কারণ কী, লোকসানের জন্য কারা দায়ী এই বিষয়গুলো সরকার বরাবরের মতো জনগণকে জানতে দেয় না। কিন্তু একটু খতিয়ে দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায়, লোকসানের পেছনের দায় করপোরেশনের কর্তাদের দুর্নীতি-লুটপাট, অব্যবস্থাপনা ও সরকারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু চিনি নীতির অভাব।

আরো পড়ুন>>> রংপুরে ভেজাল পোলাও চাল তৈরির কারখানার সন্ধান

এর আগে সরকার বন্ধ করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকল। এর মধ্য দিয়ে বেকার হয়েছে স্থায়ী-অস্থায়ী প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাট চাষ, বিপণন ও ব্যবসার সাথে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ। চিনিকলগুলোতে সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে ১৬ হাজার লোকের। আর বন্ধ হওয়া ৬টি কলে কর্মরত আছেন ২ হাজার ৮৮৪ জন শ্রমিক-কর্মচারী-কর্মকর্তা। আখচাষে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত আছেন ৫ লাখ কৃষক। সব মিলিয়ে এ খাতে ৫০ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা নির্বাহ হয়। বহু চিনিকলে ৩-৪ মাসের মজুরি ও বেতন বকেয়া পড়েছে। পাওনার দাবিতে শ্রমিকরা প্রায়ই রাস্তায় নামছেন, আন্দোলনে সামিল হচ্ছেন। করোনাকালে বহু মানুষ বেকার কর্মহীন হয়ে পড়েছে, ছাঁটাইয়ের শিকার হচ্ছে।

এই সময় দরকার ছিল সামাজিক সুরক্ষার অংশ হিসেবে সরকারিভাবে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। তা না করে উল্টো চিনিকলগুলোকে বন্ধ করে লক্ষ লক্ষ মানুষকে পথে বসানো হচ্ছে। অথচ কোটি কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বিদেশ থেকে চিনি আনার বিপরীতে এই মানুষেরাই কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রার খরচ বাচাচ্ছে। রাষ্ট্র তাদের প্রণোদনা দেবার কথা তো ভাবেনিই, বরং তাদের ন্যায্য হিসাবের পাওনা বেতনও ঠিক সময়ে দিচ্ছে না। কনভেনশনে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।

স্বাআলো/আরবিএ