১৮ বিক্ষোভকারীর রক্তে ভিজলো মিয়ানমারের রাজপথ

সামরিক অভ্যুত্থানে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের পর ভয়াবহ এক রক্তাক্ত দিন দেখলো। অভ্যুত্থান বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ছুড়েছে দেশটির পুলিশ। এতে এখনো পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের। আহত হয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন।

আ্জ রবিবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। অবশ্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যম, চিকিৎসক ও রাজনীতিবিদদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সহিংসতায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর বিবিসি বলছে, এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার বরাতে আল জাজিরা জানায়, সারা দিন ধরে মিয়ানমারের বেশ কয়েকটি স্থানে পুলিশ এবং সামরিক বাহিনী দেশটির জনগণের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে মারণাস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্রের ব্যবহার করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের সূত্র অনুসারে রবিবার কমপক্ষে ১৮ জন মানুষ নিহত ও ৩০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে মারাত্মক ফল ভোগ করতে হবে: জাতিসংঘ

দেশটির রাজনীতিবিদ কিয়া মিন হিটেক জানিয়েছেন, দাউই শহরের বিক্ষোভে গুলি চালিয়ে পুলিশ। এতে একজনের মৃত্যু হয়। এরপর আরো দুইজনকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ইয়াঙ্গুনের মূল শহরে স্টান গ্রেনেড দিয়ে শিক্ষকদের একটি বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। এসময় এক নারী মারা গেছেন। যদিও তার মৃত্যুর কারণ নির্দিষ্ট করে এখনও জানা যায়নি। ওই নারীর মেয়ে এবং এক সহকর্মী এ তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়া পরে আরও চারজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

রয়টার্স বলছে, তবে দেশজুড়ে বিক্ষোভে গুলি চালানো ও হতাহতদের ব্যাপারে পুলিশ বা ক্ষমতাসীন সামরিক কাউন্সিলের মুখপাত্রের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। জানতে চেয়ে ফোন করা হলে কোনো সাড়া দেয়নি।

সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের পর গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ও গ্রেফতার নেতাদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নামে সাধারণ মানুষ। মিয়ানমার সেনাবাহিনী বলছে, বিক্ষোভ ঠেকাতে তারা ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করছে।

স্বাআলো/এস