৫ বছরে সাড়ে ২৬ হাজার ধর্ষণ মামলা!

গত ৫ বছরে সারাদেশে ২৬ হাজার ৬৯৫টি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ হিসাবে গড়ে প্রতিদিন থানায় ১৫টি মামলা হচ্ছে। হাইকোর্টে দাখিল করা এক প্রতিবেদনে পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

৩ মার্চ বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদনটি দাখিল করা হয়। পুলিশ মহাপরিদর্শকের পক্ষে অতিরিক্ত ডিআইজি রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনটি আদালতে দাখিল করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ রাসেল চৌধুরী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এমএমজি সরোয়ার পায়েল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারাদেশে ২০১৬ সালে ৪ হাজার ৩৩১টি, ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৬৮৩টি, ২০১৮ সালে ৪ হাজার ৬৯৫টি, ২০১৯ সালে ৬ হাজার ৭৬৬টি ও ২০২০ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত ৬ হাজার ২২০টি মামলা ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে।

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড আইন পাস করার পরও এ অপরাধ থামছে না। সবার মুখে এক কথা দেশে ধর্ষণ মহামারী চলছে। শুধু এ কথা নয় ধর্ষকরা করোনা মহামারীর চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকার, বুদ্ধিজীবী, ছাত্র, শিক্ষক, রাজনীতিক, পেশাজীবী সাধারণ মানুষ এক কথায় সব শ্রেণির মানুষ আজ এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধ একাট্টা। কিন্তু ধর্ষকার থেমে নেই। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে তারা সরকারসহ প্রতিবাদী মানুষের বিরুদ্ধে চ্যালঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। নতুবা ধর্ষণ বিরোধী প্রবল জনমতের মধ্যেও গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে কি করে। গণমাধ্যম ধর্ষকদের অমানুষ হিসেবে অবিহিত করে। আসলে তারা মনুষ্য সমাজের অন্তর্ভুক্ত নয়। এদের সভ্য মানুষের সমাজে বাসের কোনো অধিকার নেই। তাদেরকে সে অধিকার দেয়াও ঠিক নয়।

আরো পড়ুন>>> ভিক্ষুকের টাকা ছিনতাই

ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড আইন পাশের পরও যখন নরপশুদের এ অপরাধ থামছে না। তখন দেশপ্রেমিক সচেতন সমাজ বাধ্য হয়ে ধর্ষণ বিরোধী সভা সমাবেশ করছেন। বক্তারা ধর্ষনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিরোধ পড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সমাবেশ থেকে ধর্ষন বিরোধী কনভেনসনের ঘোষণা দেয়া হয়।
সমাবেশে বলা হয় ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের যে পরিসংখ্যান আমরা দেখা যায়, তার চেয়ে দ্বিগুণ ঘটনা আমাদের দেশে ঘটছে। সব রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনকে সংগঠিত করে সারাদেশে এই আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে হবে। ধর্ষণ ও নারী নিপীড়ন হ্রাস করতে হলে সব ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণও বাড়াতে হবে। সর্বোপরি নারীদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করতে হবে।

অবস্থা দৃষ্টে বোঝা যাচ্ছে অপরাধীরা এতটাই বেপরোয়া যে তারা মৃত্যুদণ্ডতেও ভয় পাচ্ছে না। এদের বিরুদ্ধে আর কি ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে তা সরকারের উদ্যোগে খুঁজে বের করতে হবে। যে সময় নারীরা দেশের উন্নয়নে পুরুষের মতো ভূমিকা রাখছেন সে সময় ধর্ষকদের ভয়ে তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা চলতে দেয়া যায়।

স্বাআলো/আরবিএ