ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে যুবক নিহত, পরিদর্শনে গিয়ে হামলার শিকার ইউএনও

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কাটাপোল গ্রামে ইটভাটার মাটি টানা ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে মঙ্গলবার বেলা ১২ টার সময় মঈদুল (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেল। এ ঘটনায় পরিদর্শনে গেলে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর হামলার শিকারে পরিণত হয়েছেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম মুনিম লিংকন, হাসাদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল হক বিশ্বাস এবং জীবননগর ভুমি অফিসের সার্ভয়ার ইকতিয়ার হোসেন।

দুপুর ১ টার দিকে আহত অবস্থায় ইউএনওকে উদ্ধার করে জীবননগর থানা পুলিশ। উদ্ধারের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে এনে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিনা আখতার সুমি।

খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু তারেক এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে।

এমপি শিমুলের ক্যাডার বাহিনীর হামলার শিকার সাংবাদিক তারেক

এলাকাবাসী জানান, কাটাপোল গ্রামের মাঠ হতে মাটি ও বালি উত্তোলন করে দেদারছে ইটভাটায় বিক্রি করছে একটি মহল। এ মাটি নেয়াকালে প্রতিদিন অর্ধশত ট্রাক্টর ওই রাস্তা দিয়ে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। এ নিয়ে এলাকাবাসী চরম বিক্ষুদ্ধ ছিলেন। এর প্রতিকার চেয়ে গ্রামবাসী প্রশাসনের নিকট আবেদন করে। আবেদনের প্রেক্ষিতে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মুনিম লিংকন ৪ দিন আগে ২ জন ট্রাক্টর চালককে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ অবস্থার মধ্যে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার শংকরহুদা-বাথানগাছি গ্রামের মঈদুল ইসলাম (৩৪) তার ৭ বছরের শিশু সন্তান রাসেলকে নিয়ে বাইসাইকেলযোগে শ্বশুরবাড়ি জীবননগর উপজেলার নতুন চাকলা গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে কাটাপোল গ্রামে দক্ষিণ পাড়ায় তারা পৌঁছালে ট্রাক্টরের ধাক্কায় পিতা-পুত্র আহত হোন। দুর্ঘটনায় মঈদুলের মাথার ঘিলু বাহির হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পরেই মঈদুল ইসলামের মৃত্যু হয়। ছেলে রাসেলের হাত-পা ভেঙ্গে যায়। তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ গ্রামবাসী সড়ক অবরোধ করে রাখে।

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মুনিম লিংকন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে দুই শতাধিক লোক আমাকে ঘিরে ধরেন। সেখান থেকে চলে যেতে চাইলে বিক্ষুব্ধ লোকজন আমাকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এ সময় ইটের আঘাতে আমার মাথা থেকে রক্ত বের হয়। অবস্থার ভয়াবহতা বুঝতে পেরে আমি পার্শ্ববর্তী জমির উদ্দিনের বাড়িতে আশ্রয় নিই।

তিনি আরো বলেন, বিক্ষুব্ধ লোকজন ওই বাড়িতেও হামলা চালায়। খবর পেয়ে জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী হাফিজুর রহমান দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ লোকজনকে শান্ত করেন এবং আমাকে উদ্ধার করে তার বাসভবনে নেন।

চেয়ারম্যান হাজী হাফিজুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি দুই শতাধিক মানুষ ইউএনওকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বিক্ষুব্ধ লোকজন খুবই উত্তেজিত ছিল। আমি কৌশলে ইউএনওকে উদ্ধার করে তার বাসভবনে নিয়ে যাই এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।

জীবননগর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ইউএনও ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর ৫ মিনিট আগে আমি ওখানে পৌঁছাই। আমি বিক্ষুব্ধ লোকজনকে শান্ত করার চেষ্টা করি। এ সময় ইউএনও গাড়ি থেকে নামার পরই উত্তেজিত লোকজন তার ওপর হামলা চালায়।

জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সেলিনা আখতার সুমি জানান, ইউএনও মাথায় ইটের আঘাত লেগেছে। তবে তিনি শঙ্কামুক্ত।

স্বাআলোা/এসএ

.