মুজিব চেতনা জাগরিত করার লক্ষ্যে যশোর শিক্ষাবোর্ডে চলছে সেবা কর্মসূচি

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে যশোর শিক্ষাবোর্ডে সেবা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। মুজিব চেতনা জাগরিত করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু’র জন্মদিন ১৭ মার্চ থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত চলবে।

এ কর্মসূচির আওতায় জরুরি সেবা গ্রহীতাদের তাৎক্ষণিকভাবেই সেবা দেয়া হচ্ছে। কর্মকর্তারা গুরুত্বের সাথে কাজ করছেন। কাউকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে না।

যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্লা আমীর হোসেন যোগদান করার পর থেকেই শিক্ষাবোর্ডকে পুরাপুরি ডিজিটাল করা হয়। শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন থেকে শুরু করে ফরমপূরণ, মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে সব পরীক্ষা ও বৃত্তি ফলাফল প্রদান, নাম ও বয়স সংশোধন করে সনদপত্র প্রদান, ম্যানেজিং কমিটি অনুমতি, ওয়েম্যার প্রেরণ, অনলাইন ক্লাসরুম, ওয়েবসাইডে বঙ্গবন্ধু’র ভাষণ স্থাপন, প্রশ্নব্যাংক, ফলাফল আর্কাইভসহ সব সেবায় অনলাইনে দেয়া হয়। স্টুডেন্ট প্রোফাইল, বায়োমেট্রিক উপস্থিতির উদ্যোগও বাস্তবায়নের পথে। বোর্ডে এখন আর হাতে লেখা (ম্যানুয়াল) কোনো আবেদন গ্রহণ করা হয় না। সব আবেদনই অনলাইনে করতে হয় । অনলাইন সেবা নিতে সেবা গ্রহীতাদের সেবা সপ্তাহে বেশি বেশি অনুপ্রেরণিত করা হচ্ছে। চুক্তির মাধ্যমে ঢাকা বোর্ড ও ময়মনসিংহ বোর্ডেরও অনলাইনের কাজও করছে যশোর বোর্ড ।

ঘরে বসেই সংশোধিত সনদ: ঘরে বসেই সংশোধিত সনদসহ সকল কাগজপত্র পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। নাম ও বয়স সংশোধনের জন্য এখন কাউকে আর বোর্ড অফিসে ছোটাছুটি করতে হয় না। বোর্ডের ওয়েবসাইটে আবেদন করে সোনালী ব্যাংকের সোনালী সেবার স্লিপ প্রিন্ট করে ব্যাংকে টাকা জমা দিলেই শুরু হয়ে যায় সংশোধনের কাজ। সেবা গ্রহীতাকে বোর্ড পর্যন্ত আসতে হয় না। কোথাও ছুটতেও হয় না। সংশোধন হয়ে গেলে বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে প্রিন্ট কপি ডাউনলোড করে নেয়া যায়। এমনকি কোনো দরকারি প্রয়োজনে সার্টিফিকেট কোনো প্রতিষ্ঠানকে দেখাতে চাইলে সাইটের নির্ধারিত অপশন থেকে প্রর্দশনও করা যায়। আগে এই কাজের জন্য দিনের পর দিন বোর্ডে এসে ধর্ণা দিতে হতো। আর তার সুযোগ নিত দালাল শ্রেণি।

অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ওফরম পূরণ: যশোর শিক্ষা বোর্ডের স্কুল কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীদের ভর্তি, বদলি, রেজিস্ট্রেশন, ফরমপূরণ সবই অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে কমেছে ভুলের পরিমাণ, হয়রানি, দুর্ভোগ ও দীর্ঘসূত্রিতা। ব্যাংকে টাকা জমা দিলে কাজ হয়ে যায়।

বোর্ডের প্রশ্নব্যাংক: যশোর বোর্ড প্রশ্নব্যাংক সফটওয়্যার তৈরি করে। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষকরা সৃজনশীল প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করেন। বোর্ডের দক্ষ মডারেশন সেল প্রশ্ন যাচাইবাছাই করে ওয়েবসাইটে সংরক্ষণ করে। এতে শিক্ষকদের সৃজনশীল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের দক্ষতা বাড়ছে। প্রশ্নব্যাংকে প্রশ্নে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলের অর্ধবার্ষিক, বার্ষিক, প্রাকনির্বাচনী, নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে কমেছে গাইড নির্ভরতা, প্রশ্নফাঁসের অপতৎপরতা।

পরীক্ষা পদ্ধতি ও ফলাফল
যশোর বোর্ডের পরীক্ষার কার্যক্রম ও ফলাফল প্রকাশ অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফরমপূরণের পর অনলাইনেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলে যাচ্ছে প্রবেশপত্র। বোর্ড পরীক্ষার পর (জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি) সকল শিক্ষার্থীর ফোনে এসএমএস’র মাধ্যমে ফলাফল পাঠানো হয়।

স্টুডেন্ট প্রোফাইল
যশোর শিক্ষা বোর্ড ‘স্টুডেন্ট প্রোফাইল’ তৈরির একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বোর্ডের অধীনে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর এই প্রোফাইল থাকবে। স্বতন্ত্র এই প্রোফাইল শিক্ষার্থী সারাজীবন ব্যবহার করতে পারবে। এখানে তার যাবতীয় তথ্যের পাশাপাশি পরীক্ষার ফলাফল সংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে। এছাড়া তার ব্যক্তিগত অর্জনগুলোও সে সংযুক্ত করে রাখতে পারবে। চলতি বছরেই ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল তৈরির মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। এটি তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এই স্টুডেন্ট প্রোফাইল হবে শিক্ষার্থীর সমৃদ্ধ পূর্ণাঙ্গ বায়োডাটা। এর লিংক দিয়েই সে তার পুরো বায়োডাটা দেখাতে বা ব্যবহার করতে পারবে।

বায়োমেট্রিক উপস্থিতি নিশ্চিত ও মনিটরিং
যশোর বোর্ড এই পদ্ধতিটি কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করার উদ্যোগ নিয়েছে। অর্থাৎ প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শিক্ষার্থী বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করবে। এই উপস্থিতি বোর্ডের ওয়েবসাইটেও সংরক্ষিত থাকবে। ফলে বছর শেষে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার পাওয়া যাবে। আর কম উপস্থিতির হার থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফরম পূরণ হবে না।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্লা আমীর হোসেন বলেন, যশোর বোর্ড এখন অনলাইন বোর্ড। এখানে শতভাগ সেবা অনলাইনে প্রদান করা হয়। সেবার জন্য এখন আর কাউকে বোর্ডের দরজায় ধর্ণা দিতে হয় না। সকল আবেদন অনলাইনে গ্রহণ করে সেবা দেয়া হয়। এতে সেবা প্রদানের হার বেড়েছে পাশাপাশি কমেছে ভোগান্তি ও অনিয়ম। সাধারণ মানুষের মাঝে মুজিব চেতনা জাগরিত করতে ১৭ মার্চ থেকে সেবা সপ্তাহ চালু করা হয়েছে। সেবা গ্রহীতারা নব উদ্যমে সেবা নিচ্ছেন।

এবার (২০২১) এসএসসির ফরম পূরণের পদ্ধতিকে সহজীকরণ করার করা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ পদ্ধতি অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে বোর্ডের ফরম পূরণের একটি লিংক পাবে অভিভাবাদের মোবাইলে। বোর্ডের ওয়েবসাইটেও এসএসসি ফরমফিলাপ ২১ নামে একটি প্যানেল থাকবে। প্যানেলে ক্লিক করলে বা মোবাইলে প্রাপ্ত লিংকে টাচ করলেই নিবন্ধন নম্বরসহ সামান্য কিছু তথ্য চাবে এবং তা দিয়ে সাবমিট অপশনে টাচ করলেই বোর্ড ফি এর জন্য সোনালী সেবার একটি রশিদ পাবে ও কেন্দ্র ফির পরিমাণ উল্লেখপূর্বক একটি স্লিপ পাবে। তা প্রিন্ট দিয়ে সোনালী সেবার রশিদ অনুযায়ী বোর্ড সোনালী ব্যাংকে জমা দিবে এবং কেন্দ্র ফি ও স্কুলের পাওনা স্কুলে বা স্কুল কর্তৃক প্রদত্ত ব্যাংক হিসেবে জমা দিবে। সোনালী সেবার মাধ্যমে বোর্ড ফি জমা দিলেই শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ প্রাথমিকভাবে সম্পন্ন হবে এবং প্রধান শিক্ষকের তার প্যানেলে প্রবেশ করে উভয় প্রকার ফি জমাদানকারী শিক্ষার্থীদের তালিকা ফাইনাল সাবমিট করলেই ফরম ফিলাপ চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হবে এবং এই তালিকা অনুযায়ী প্রবেশ পত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইস্যু হবে ও অনলাইনে তা শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে যাবে।

স্বাআলো/আরবিএ

.

Author