১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে খালি পায়ে হাঁটেন ইছাহাক

ইছাহাক আলী শরিফ বলেন, এহন সবাই আওয়ামী লীগ করে, আওয়ামী লীগকে ভালোবাসে। আর আমি মুজিবকে ভালোবাসি। একজন মুজিব ছিল বলেই আজ বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। আমরা পেয়েছি স্বাধীন রাষ্ট্র। যে মাটিতে আমার নেতা শেখ সাহেব ঘুমিয়ে আছেন, সেই মাটিতে আমি কোন দিনই জুতা পায়ে হাঁটতে পারব না। তাই শেখ সাহেবের মৃত্যুর পর আর কোনদিন জুতা পায়ে দেই না। তার মৃত্যুর শোকে তখন থেকেই কালো পোশাক পরিধান করি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার পর থেকেই ইছাহাক আলী শরিফ (৯২) বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড মানতে পারেননি তিনি।

দিনমজুর ইছাহাক আলী শরিফ। শেখ মুজিবুর রহমানকে হারানো শোক বুকে ধারণ করে দীর্ঘ ৪৫ বছর যাবৎ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের এ বাংলাদেশের মাটিতে খালি পায়ে ও তার মৃত্যুর শোক হিসেবে কালো পোশাকে চলাচল করছেন।

এ কারণে স্থানীয়রা তাকে মুজিব ‘পাগল’ বলে আখ্যায়িত করেন। মুজিবভক্ত ইছাহাক আলী বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে একটি জরাজীর্ণ পরিবেশে ছোট্ট একটি ঘরে বসবাস করেন।

স্থানীয়রা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সপরিবারে নিহত হওয়ার খবর যখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে তখন থেকেই ইছাহাক আলী শরিফকে দেখছি পরনে কালো লুঙ্গি ও গাঁয়ে কালো জামা এবং খালি পায়ে হাঁটেন। এটা শুধু বাড়ি বসে নয়, হাটবাজারসহ কোথাও কোনো অতিথি হয়ে গেলেও এ পোশাক থাকে তার।

ইছাহাক আলী শরিফ বলেন, এহোনগো নেতাগো ধারে মোর কিছু চাওয়ার নাই। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন করা এই জমিনে তিনি শুয়ে আছেন। আর সেই জমিনে আমি কোনদিনই জুতা পায়ে হাঁটিনি আর হাঁটবো না। শুধু গ্রামে গ্রামে ঘুরে শেখ মুজিবের নামে দোয়া চাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, এহন সবাই আওয়ামী লীগ করে, আওয়ামী লীগকে ভালোবাসে। আর আমি মুজিবকে ভালোবাসি। একজন মুজিব ছিল বলেই আজ বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। আমরা পেয়েছি স্বাধীন রাষ্ট্র। যে মাটিতে আমার নেতা শেখ সাহেব ঘুমিয়ে আছেন, সেই মাটিতে আমি কোন দিনই জুতা পায়ে হাঁটতে পারব না। তাই শেখ সাহেবের মৃত্যুর পর আর কোনদিন জুতা পায়ে দেই না। তার মৃত্যুর শোকে তখন থেকেই কালো পোশাক পরিধান করি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ছোটবগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মু. তৌফিকউজ্জামান তনু বলেন, শেখ মুজিবের মৃত্যুর পর থেকে খালি পায়ে হাঁটা ও কালো পোশাক পরিধান করা ইছাহাক আলী শরিফ এলাকায় মুজিব পাগল নামে পরিচিত। তিনি কোনো কিছু দাবি না করলেও চেয়ারম্যান হিসেবে তার পরিবারের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখি।

স্বাআলো/এসএ