করোনায় করুণ অবস্থা জেরিনা বেগমের, টাকা দিয়েও মেলেনি ভাতার কার্ড

দীর্ঘ দশ বছর আগে ৪৮ বছর বয়সী জেরিনা বেগমের স্বামী মারা যান। এর পর এক ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে একটি কুঁড়ে ঘরে অতি কষ্টে দিন যাপন করছেন জেরিনা বেগম। অভাব অনটনের ভর কাঁধে চেপে বসলে পরের দুয়ারে ভিক্ষা করে সংসার চালাতে শুরু করেন তিনি।

গেল তিন বছর আগে বিধবা কার্ডের জন্য সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্যের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়েও মেলেনি বিধবা ভাতার কার্ড। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের শিবনারায়ণপুর গ্রামে। স্থানীয়রা জানায়, মাত্র দেড় কাঠা জমিতে কুঁড়ে ঘরে বসবাস করে আসছেন জেরিনা।

গত দশ বছর আগে মারা যান তার স্বামী লালান আলি। স্বামী মারা যাওয়ার পর স্বপ্ন ভেঙে যায় জেরিনার পরিবারের। অভাব অনটনে দিন পার করছেন তিনি। দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হওয়ায় কিছুটা সস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন। কিন্তু মেয়ের সে সংসার টিকেনি বেশিদিন। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে তাদের। এর পর থেকে এক সাথে ওই কুঁড়ে ঘরেই বসবাস করছেন তারা।

জেরিনা বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী লালান রিকশা চালিয়ে রোজগার করে সংসার চালিয়ে আসছিল। হঠাৎ স্বামী মারা গেলে সংসারে নেমে শোকের ছায়া। আয় উপার্জনের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়। তার পরেও অন্যের বাড়িতে কাজ কাম করে কোন রকমে সংসার চলছিল। হঠাৎ বড় মেয়ের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে সংসারে বেড়ে যায় আরো দুর্ভোগ।

 দিন দিন অভাব অনটনের মধ্যে পড়লে বাধ্য হয়ে সংসারের হাঁড়ি চড়াতে বেছে নিতে হয় ভিক্ষার পেশা। মেলেনি কোন সরকারি সুযোগ সুবিধা। একটি ভাতা কার্ডের জন্য কুস্তরি মেম্বারনিকে ভোটার আইডি কার্ডসহ দুই হাজার টাকা দিয়েও জোটেনি ভাতা। গত তিন বছর যাবত অপেক্ষা করেও মিলছে না কার্ড। দীর্ঘদিন পর ৫০০ টাকা দিলেও ফেরত দিচ্ছেন না বাকি ১৫০০ টাকা। কুঁড়ে ঘরে দুই মেয়ে, এক ছেলে ও তিন ছাগল সঙ্গে নিয়েই কোন রকমে রাত পার করে আসছি। শুনেছি যাদের জমি ও ঘর নেই, তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাঁকা ঘর করে দিচ্ছেন।

বাম্পার ফলনেও মাথায় হাত লালমনিরহাটের আলু চাষিদের

আমার তো দেড় কাঁঠা জমি আছে! আমি কি পাকা ঘর পাবো বাপু? শেখ হাসিনা দয়া করে আমাকে একটি পাঁকা ঘর দিলে ছেলে মেয়ে সঙ্গে নিয়ে বাকি জীবনটা সুখে কাটাতে পারতাম। অন্যদিকে কানসাট ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬ সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য কুস্তরি বেগম টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অল্প কয়েকদিনের মধ্যে জেরিনাকে টাকা ফেরত দিবো।

 রিপোর্টটি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে সাংবাদিককে ম্যানেজ করার চেষ্টাও করেন তিনি। এদিকে জেরিনা বেগমকে ভিক্ষুক পূনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় এনে পরিবারটির স্বচ্ছতা ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার দাস জানান, জেরিনা বেগম বিধবা ভাতা পাবার যোগ্য। তবে বর্তমানে বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ পেলে ভাতা বহি কার্ড প্রদানের আশ্বাস দেন। তিনি সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে টাকা নেয়ার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথাও জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, জেরিনার নামে যদি জমি থাকে, তাহলে অবশ্যই জমি আছে ঘর নেই প্রকল্পের আওতায় তাকে অর্ন্তভূক্তি করা হবে।

স্বাআলো/আরবিএ