মাদক পাচার বন্ধ হচ্ছেই না

মাদকের বিরুদ্ধে সরকার ও প্রশাসন জিরো টলারেন্স। এ অবস্থায় দেশের প্রশাসনের এমন কোনো কর্মকর্তা নেই যিনি মাদকের বিরুদ্ধে দু’-পাঁচটা কথা বলেন না? এমন কোনো ওসি নেই যিনি মাদকের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেননি? তার পরও ফলটা কি? একেবারেই শূন্য। বিতর্ক করলে অনেক কথা বলা যাবে। আর এ বিতর্কের কোনো মীমাংসা নেই। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুরে ১ লাখ ৭ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে আটক করেছে আরএবি।

৫ এপ্রিল বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামপুরস্থ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চেক পোস্টে সন্দেহভাজন পরিবহনে তল্লাশি চালায় আরেএবি সদস্যরা। এ সময় ঢাকাগামী একটি প্রাইভেটকার তল্লাশি করে লাগেজ ও বস্তা মোড়ানো অবস্থায় ওই ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পাচারের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রাইভেটকারে থাকা ওবায়দুর রহমান ও তার স্ত্রী ববি আক্তার এবং মোহাম্মদ কাইফ নামের তিন ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলো, গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ওবায়দুর রহমান সাবু মণ্ডল (৩৫) ও স্ত্রী ববি আক্তার (৩২), কক্সবাজারের নোমানিয়াচড়ার কায়েস (২৫)।

ফেনী আরএবি-৭ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি অধিনায়ক জুনায়েদ জাহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সন্দেহজনক প্রাইভেটকারটি থামানের সংকেত দিলে না থামিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়া করে আটক করা হয়। আটককৃত আসামি এবং জব্দকৃত মালামাল সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে ফেনী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরো পড়ুন>>> এ নিষ্ঠুরতার শেষ কোথায়!

তাহলে কি চোরা পথে আসা মাদকে দেশ ভাসছে? ইয়াবা ধরা পড়েছে, আর ফেনসিডিল, হেরোইন, ইয়াবা, মদ গাঁজার স্রোত বয়ে যাচ্ছে। কোথা থেকে কি হচ্ছে, কেনইবা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতার পরও চোরাচালানীরা নিবৃত হচ্ছে না এটা ভাবলে মাথা বিগড়ে যাবার কথা।

নেশার কালো থাবা এমনভাবে মানুষকে গ্রাস করে যে নেশাসক্ত নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। জীবন তাদের কাছে হয়ে ওঠে তুচ্ছ। মরবে কি বাঁচবে সে জ্ঞান তাদের থাকে না। আর ধর্ম জ্ঞান সে তো অনেক দূরের বিষয়। তারা সব সময় মানসিক উচ্ছৃঙ্খলা, অবসাদ ও বিষন্নতায় ভোগে।

সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থান গ্রহণ করলেও ফল কিন্তু সন্তোষজনক নয়। এ ব্যবসাকে ডেডস্টপ করতে হবে। গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ, চোরাকারবারীদের নেটওয়ার্ক কতদূর বিস্তৃত যে একটি ইসলামিক রাষ্ট্র সৌদিতেও তাদের কারবার শাখা মেলেছে। তবে এরা কিন্তু গভীর পানির মাছ। তারা ধরেই নিয়েছে সৌদিতে মাদক পাঠানো হচ্ছে তা কর্তৃপক্ষ ধারণাই করতে পারবে না। কিন্তু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বেরসিক লোকজন কিভাবে তা বুঝে ফেলেছেন। তাদের উদ্দেশ্য মাঠে মারা গেছে। এদের যদি দমন করা যেত তা হলে এতদূর এগোতে পারতো না। বিকশিত হবার আগেই হারিয়ে যায়, কত উদীয়মান প্রতিভা। বিধবা হয় কত নারী, কত শিশু এতিম হয়। মাদকাসক্তরা পরিবার সমাজে অস্বাভাবিক জীবনযাপনের শিকার হয়।

মাদকের মূলোৎপাটনে সরকার যে শুভ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা সফল করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক হতে হবে।

স্বাআলো/আরবিএ