ঝিকরগাছায় বুকভরা আশা নিয়ে বোরোইরি ধানে কৃষকের কাঁচি

এবারো গত মৌসুমের মতো বোরোইরি চাষে বাম্পার ফলন আর কাঙ্খিত দাম পাওয়ায় আশায় যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় কৃষক ধান কাটতে শুরু করেছেন। আগাম চাষ করা অনেক কৃষক ইতোমধ্যে ধান কেটেছেনও। ফলনও মোটামুটি ভালো পেয়েছেন। পাশাপাশি কাঙ্খিত দাম পাওয়ার আশা করছেন ধান চাষিরা। কৃষকের দাবি অন্তত দশ-এগারো বছর পর তাঁরা গেলবার ধান চাষে লাভবান হয়েছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেব মতে চলতি মৌসুসে এ উপজেলায় ১৭ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরোইরি ধান চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল। চাষ হয়েছে ১৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের চেয়ে বেশি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বল্লা গ্রামের মাঠে অনেকেই ধান কেটেছেন। গ্রামের শুকচান আলী মোড়ল, মহসিন আলম মুক্তি, আলী হোসেনসহ কয়েকজন ধান কেটেছেন। কৃষক শুকচান আলী মোড়লের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, এ মৌসুমে ১৩ বিঘা জমিতে বোরোইরি ধানের চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে ব্রি ৩৩ ও ব্রি ২৮ জাতের পাঁচ বিঘা জমির ধান কেটেছেন। পোকার আক্রমণ হওয়ায় ব্রি ২৮ ধানে ফলন একটু কমে গেছে, তারপরও কাঠায় এক মণ করে ফলন হয়েছে। তিনি এক হাজার ২০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করেছেন। তাঁর বাকি ধান বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করেছেন। মহসিন আলম মুক্তি জানান, তাঁর ধান কাটা হয়ে গেছে। ঝাড়া না হওয়ায় ফলনের পরিমাণ বলতে পারেননি তবে, বাম্পার ফলনের আশা ব্যক্ত করেন। কাঙ্খিত দাম পেলে কৃষক ধান চাষে লাভবান হবেন বলে দাবি করেন। ধান ব্যবসায়ী কানাইরালী গ্রামের গোলাম রসুল জানান, বর্তমান নতুন ধান প্রকারভেদে এক হাজার কুঁড়ি থেকে ১১০০ টাকা কেনাবেচা হচ্ছে।

ঝিকরগাছার আব্দুল মাজিদ পেঁয়াজ চাষে লাভবান

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশ জানান, কৃষক ধানের কাঙ্খিত দাম পাওয়ায় এর চাষ বেড়েছে। অনুকূল আবহাওয়া আর কৃষি বিভাগের তৎপরতায় চলতি মৌসুমেও বোরো ধান চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা।

স্বাআলো/আরবিএ