অপরাধীর পক্ষে সহানুভূতি দেখানোর সুযোগ নেই

ঘুষ আর চাঁদাবাজি, দুটি কথা। কথা দুটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা কি জানিনে। তবে প্রচলিত ধারণামতে বিভিন্ন দফতরের সরকারি লোকে অবৈধভাবে যে টাকা জনগণের কাছ থেকে আদায় করে সেটা ঘুষ আর বেসরকারি পেটোয়া বাহিনী যেটা আদায় করে সেটা চাঁদা। দুই ক্ষেত্রেই শক্তি প্রয়োগ করা হয়।

অবস্থাটা এমন হয়েছে যে এ অপরাধে এবার র‌্যাবের কিছু অসৎ সদস্য জড়িয়ে গেলো। ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও অনেক কথা আসছে, কিন্তু অধস্তনরা তা মানছে না। কেন যে মানছে না, আর কি করলে মানবে তার কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না। গণমাধ্যমে র‌্যাব সদস্য কর্তৃক অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের এক চাঞ্চল্যকর সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ জন্য বলা হচ্ছে যে, এই বাহিনীটি জনগণের আস্থার জায়গা ছিলো। তাদের নির্মোহ কার্যক্রমে বাহিনীটির ওপর মানুষের প্রগাঢ় বিশ্বাস জন্মেছিলো। কিন্তু সেই প্রবাদ কথার মতো ‘একমণ দুধে একফোটা গো-চুনা’ পড়লে যেমন পুরো দুধটা নষ্ট হয়ে যায়, তেমনি একটি সুশৃংখল দেশপ্রেমিক বাহিনীর দু’একজনের অপরাধে পুরো বাহিনীর ঘাড়ে দোষ চেপে বসে। এজন্য যে দু’একজন অপরাধ করবে তাদের যথাযথ শাস্তি হওয়া দরকার।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে দৃঢ়তার সাথে বলা হয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে কোনো রকম সহানুভূতি দেখানো হবে না। এর আগেও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে তাদেরকে যথাযথ শাস্তি দেয়া হয়েছে। এমন কথায় মানুষের মাঝে আস্থা আবারো সৃষ্টি হলো। আমরা এতটুকু বলতে চাই যে র‌্যাব সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাদের কারণে যেনো ভাবমূর্তিতে উজ্জ্বল একটি বাহিনীর সুনাম নষ্ট না হয়। মানুষের আস্থার জায়গার বড্ড প্রয়োজন।

এক শ্রেণির মানুষ টাকার জন্য বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো এ সব অভিযোগ জনসাধারণের বলার জায়গা নেই। দুষ্টের দমন ও শিষ্ঠের পালনে র‌্যাব যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা যেনো অর্থ লোলুপ দু’একজনের কারণে ধূলায় মিশে না যায়। একটি কথা বর্তমানে বেশি মাত্রায় শোনা যাচ্ছে, তাহলো বিচারহীনতার সংস্কৃতি। এ কারণে অন্য সব ক্ষেত্রে অপরাধ বন্ধ হচ্ছে না। এর কুফলটা এই যে একটি অপরাধের বিচার বা শাস্তি না হলে আর একটি অপরাধ করতে অপরাধীরা আষ্কারা পায়। এ ক্ষেত্রে র‌্যাব ব্যতিক্রমী সংস্থা। র‌্যাবের কাছ থেকে সবাই শিখুক অপরাধী যেই হোক তাকে শাস্তি পেতেই হবে। সবাই যদি এ নীতিতে চলে তাহলে দেশটি দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে তা নিশ্চিত করে বলা যায়। আমাদের অগ্রগতির প্রধান প্রতিবন্ধক অপরাধ বা দুর্নীতি।