মামুনুলের আরেক জান্নাতের সন্ধান, গোয়েন্দাদের কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের আরেক বান্ধবীর সন্ধান পেয়েছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। তার নাম জান্নাতুল ফেরদৌস। এ নারীকে এতোদিন মামুনুলের প্রথম স্ত্রী ধারণা করলেও দুই দিন আগে বেরিয়ে এসেছে নতুন তথ্য। এতে রীতিমতো হতভম্ব গোয়েন্দারা।

পরে মামুনুলের ঘনিষ্ঠ অনেকের কাছে এ নারী সম্পর্কে যাচাই-বাছাই শেষে গোয়েন্দারা আরো নিশ্চিত হোন। তবে মামুনুল হকের আগের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা হওয়ায় এই জান্নাতের পরিচয় নিশ্চিতে বেগ পেতে হয়। মামুনুল ও জান্নাতের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বর্তমানে গোয়েন্দাদের হাতে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জের জান্নাতুল বায়াত মহিলা মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন মামুনুলের এ বান্ধবী। মাদরাসার পাশেই একটি বাসা ভাড়া করে থাকেন। এ বাসাতেই মাওলানা মামুনুল মাঝেমধ্যে যাতায়াত করতেন। নিয়মিত যোগাযোগ ছিল, একান্তে সময় কাটানোর অনেক উপকরণও হাতে পেয়েছেন গোয়েন্দারা। অনেক তথ্য-প্রমাণও এসেছে গণামধ্যমের কাছে। জান্নাতুল বায়াত মহিলা মাদরাসার প্রধান উপদেষ্টা হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল।

৪৯ সেকেন্ডের অডিওতে মামুনুল-জান্নাতের কথোপকথন:

মামুনুল: হ্যালো আমি আসছি।

জান্নাত: চলে আসছেন? গেট খোলা আছে।

মামুনুল: গেট খুলে আমাকে রিসিভ করার ব্যবস্থা করো।

জান্নাত: হ্যাঁ।

মামুনুল: আসতেছি কিন্তু…

জান্নাত: আচ্ছা।

মামুনুল: কেউ আছে নাকি দেখো আগে।

বাসা থেকে চলে যাওয়ার পর ১ মিনিট ২১ সেকেন্ডের অডিওতে মামুনুল-জান্নাতের কথোপকথন:

মামুনুল: চলে আসছি। বুঝছো…

জান্নাত: ঠিক আছে। শুনছি।

মামুনুল: চোরের মতো কথা কও কিল্লাইগা। জোরে জোরে কথা কইতে পারো না?

জান্নাত: জোরে কেনো কমু। বেশি করে কমু। সমস্যা কী?

মামুনুল: হে হে হে…. গুডনাইট। ফ্রেশ-ট্রেশ হয়ে নামাজ পড়ে আমার জন্য দোয়া করো। বুঝছো।

জান্নাত: কী হইছে?

মামুনুল: ফ্রেশ হইয়া নামাজ-টামাজ পড়বা না?

জান্নাত: হুঁ।

মামুনুল: নামাজ পড়ো আর আমার জন্য দোয়া করো।

জান্নাত: বাসায় পৌঁছে একটা মেসেজ দিয়েন।

মামুনুল: বাসায় পৌঁছে মেসেজ দেয়ার কী আছে? বাসায় তো পৌঁছায়া গেছি।

জান্নাত: কী হইছে।

মামুনুল: বাসা তো এইখানে।

জান্নাত: আচ্ছা… যান।

মামুনুল: আচ্ছা।

জান্নাত: আসসালামু আলাইকুম।

৩ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের অডিওতে মামুনুল-জান্নাত যা বলেছিলেন:

জান্নাত: আসসালামু আলাইকুম।

মামুনুল: ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমতুল্লাহ।

জান্নাত: দেখছেন।

মামুনুল: না।

জান্নাত: তাহলে আগে প্ল্যানটা বলেন।

মামুনুল: পিলান-টিলান আর বলতে পারুম না। হাতে সময় বের করতে পারি কি না। পারলে তখন কী করবো সেটা বলো।

জান্নাত: আমি বলি শোনেন। আপা আছে না।

মামুনুল: হ্যাঁ।

জান্নাত: আপার ইবনে সিনায় কিছু টেস্ট আছে।

মামুনুল: হ্যাঁ।

এবার মামুনুল হকের আসল রহস্য ফাঁস করলেন ঝর্ণার ছেলে (ভিডিও)

জান্নাত: চাইছিলাম আজকে টেস্টগুলো করাতি দেয়ার জন্য।

মামুনুল: হ্যাঁ।

জান্নাত: আমি বের হলেও তো এদিকে কাজগুলো পারবো না। আর আপার টেস্টের জন্য বের হলে সাড়ে ৩টার পরে বের হবো।

মামুনুল: সাড়ে ৩টায় বের হও। আমার প্রোগ্রাম আরো পরে। তারপর কী করবা। উনি কী করবে তুমি কী করবা।

জান্নাত: বাসায় নিয়া আমু। আমারে জিগায়সে এতো দেরি হলো কিল্লায়গা। আমি বলেছি ডাক্তারের সিরিয়াল পাইতেছিলাম না। সিরিয়াল পাইতে দেরি হইছে। পরে আমি বলছি আর সমস্যা নাই। আমি বাসায় একলা থাকতে পারবো। থাকতে তো পারবো এটা আমিও জানি। সমস্যা কী? থাকবো। কিন্তু আমি যদি রাতে ব্যাক করি? রাতে তো মনে হয় ব্যাক করা হবে না। আসলে সকালে। বুঝছো।

মামুনুল: সে রকমই তো। এখন কী করবা বলো। ঝামেলা হয়ে গেলো।

জান্নাত: আমারে নিয়ে না আপনার কই যাওয়ার কথা।

মামুনুল: কোথায়, বলো।

জান্নাত: হুঁ।

মামুনুল: কই যাওয়ার কথা।

জান্নাত: সমুদ্রে যাওয়ার কথা।

মামুনুল: না। সেটা তো আলাদা, আলাদা প্রোগ্রাম করতে হবে। সেটা তো আরো কয়েক দিন পরে করবো ইনশা আল্লাহ।

জান্নাত: আচ্ছা। আপনি সময় পেলে করবেন। আমি আপারে টেস্ট করায়ে, হয়তো টেস্ট শেষ হতে রাত ৮টা/৯টা বাইজে যাইতে পারে।

মামুনুল: ওরে বাপরে বাপ।

জান্নাত: আল্ট্রা করে যে উনি বসে ৬টায়। ও তো একলা আসতে পারবো না এটা কয়ে লাভ না। বাসা পর্যন্ত। আজকে মনে হয় না হইব।

মামুনুল: আচ্ছা ঠিক আছে।

জান্নাত: আর যদি মনে করেন খুব বেশি সমস্যা তাহলে আজকে না কালকে গেলাম। কালকে শনিবার। এখন আপনার ওপর নির্ভর। আপনি তো সময় বের করা সো টাপ।

মামুনুল: সারা দিন তো কাজ-কাম। কোনো কিছু সহজ না।

জান্নাত: এহন আপনার ইচ্ছা। আমারে যা কইবেন তাই। আমার অতো শখ নাই।

মামুনুল: আচ্ছা তুমি তোমার মতো কাজ চালাইতে থাকো। টেস্ট-মেস্ট করাও তারপর দেখি।

জান্নাত: আচ্ছা ঠিক আছে। তাহলে আমি সাড়ে ৩টার পর আপারে নিয়ে বেরুরো।

মামুনুল: ঠিক আছে।

জান্নাত: আচ্ছা, আসসালামু আলাইকুম।

মামুনুল: ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমতুল্লাহ।

৩ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের অডিওতে মামুনুল-জান্নাত :

জান্নাত: আসসালামু আলাইকুম।

মামুনুল: ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমতুল্লাহ। কী অবস্থা। ঝামেলা নাকি?

জান্নাত: না। বলেন।

মামুনুল: কথা এমনে কইতাছ ক্যান। মনে হয় যে ঘুমায় ঘুমায় কথা কইতাছো।

জান্নাত: ঘুমায় ঘুমায় কথা বলতাছি না। ক্লাসে আছি। অফিসে বসেন। আমি আসতাছি।

মামুনুল: কেনো আমি অফিসে বসবো। আমি অফিসে বসবো না। আমি এখন কথা বলবো এবং যা ইচ্ছা তাই বলবো।

জান্নাত: বাড়াবাড়ি করতাছেন যে…

মামুনুল: কী বাড়াবাড়ি কী করছি আবার। কথা বলা মানুষের বাকস্বাধীনতা।

জান্নাত: আপনি তো আমার বাকস্বাধীনতা হরণ করছেন। পোলাপাইনের সামনে অনেক কিছু বলতে পারছি না।

মামুনুল: হা হা হা।

জান্নাত: মজা নিতাছেন।

মামুনুল: এটা ঠিক না, এটা ঠিক না। একজনকে লাইনে রাইখা আরেকজনের সঙ্গে কথা বলা। না এটা ভদ্রতা পরিপন্থী কাজ। ওনারা থাকলে এখন তো আর যাওয়া যাইবে না।

জান্নাত: এক ঝামেলার মধ্যে এতো রস আসে কোত্থেকে।

মামুনুল: আজকেই বিকালে, সন্ধ্যায় আসতাছি।

জান্নাত: আরে নাঃ।

মামুনুল: আচ্ছা ঠিক আছে তুমি জানাও।

মামুনুল হকের কথিত স্ত্রী ঝর্ণা নিখোঁজ, ছেলের জিডি

গত ৩ এপ্রিল এক নারীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টে অবকাশ যাপনের সময় আটক হোনন হেফাজতে ইসলাম নেতা মামুনুল হক। সেখানে তিনি দাবি করেন, ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে ঘটনার পর প্রায় এক ডজন অডিও-ভিডিও ফাঁস হয়েছে।

জানা গেছে, রয়েল রিসোর্ট কান্ডের পর থেকে ধানমন্ডি এলাকার ২৩/৩, নর্থ সার্কুলার রোডে থাকলেও বর্তমানে ঝর্ণার কোনো হদিস পাচ্ছেন না তার পরিবারের লোকজন। আগে সন্তানদের সঙ্গে কথা বললেও গত তিন-চার দিন ধরে তাদের সঙ্গে কথা বলছেন না ঝর্ণা। তবে কেরানীগঞ্জের একটি বাসায় বসবাস করছেন বলে একটি খবর এলেও সে সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

মামুনুলের রিসোর্টকাণ্ডে বিতর্ক বাড়ছে

ডায়েরিতে যা লিখেছেন ঝর্ণা: হাফেজ শহীদুল ইসলাম এবং জান্নাত আরা ঝর্ণার ঘরে আবদুর রহমান ও তামীম নামে দুই পুত্র সন্তান আছে। ২০১৮ সালের ১০ আগস্ট খুলনার মাদরাসা শিক্ষক শহীদুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদ হয় জান্নাত আরা ঝর্ণার। পরবর্তীতে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান তার কথিত স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা। এবার তার লেখা ২০০ পৃষ্ঠার তিনটি ডায়েরি ডিবির হাতে এসেছে। এসব ডায়েরিতে রয়েছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

ওই ডায়েরিগুলোতে ঝর্ণা তার জীবনের অনেক ঘটনাই লিপিবদ্ধ করেছেন। একটি অংশে লিখেছেন, কিছুদিন বাবার বাড়িতে থাকার পর হেফাজত নেতা মামুনুল হকের জিম্মায় অবিবাহিতা উল্লেখ করে ঢাকার নর্থ সার্কুলার সড়কের একটি বাড়ির চতুর্থ তলায় সাবলেট ভাড়া নেন। ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত জান্নাতের জীবনে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা তিনি উল্লেখ করেন তিনটি ডায়রিতে।

প্রথম ডায়রিতে জান্নাত লিখেছেন, আমাকে নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। শরীরের দাবিদার আছে।

এরপর লিখেছেন, মামুন সাহেব আমার শরীরটা কিনেছে কেন আল্লাহ সব জেনে মামুন সাহেব যা করেছেন আমি শুধু তার টাকা ফেরত দিতে চাই,… আল্লাহ কবুল করো।

দ্বিতীয় ডায়েরিতে জান্নাত লিখেছেন, আমার প্রতি কখনো কারও মায়া জন্মায়নি। শুধু প্রেমে পড়েছিল, কেউ কখনো সত্যিকারে ভালোবাসেনি। আমাদের সঙ্গে শুধু প্রেম হয়েছিলো। কোনো ভালোবাসা ছিলো না, ছিল শুধু ক্ষণিকের আবদার পূরণের আমেজ।

দ্বিতীয় ডায়েরির শেষ পাতায় লিখেছেন, এম, ২০/০২/১৯, এগ্রিম্যান্ট স্টার্ট। এই সংক্ষিপ্ত লেখার ব্যাখ্যা তৃতীয় ডায়েরিতে দেন জান্নাত। সেখানে লিখেন, স্বপ্নে দেখলাম হেল্প চাচ্ছি। বাট সে হাতটা বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরেছে। ভাবছিলাম ঘুমের মাঝে বিয়ে না করে জড়িয়ে কেন ধরেছে? এবার বাস্তবতা শুরু ঠিক ফেব্রুয়ারির ১৯ বা ২০ হবে এখন চলছে। মাঝে মাঝে মনে হয় আমি তাকে খুব ঘৃণা করি। আবার কখনো মনে হয় ভালোবাসি, তবে হ্যাঁ আমার লাইফটা নরক বানিয়ে ফেলেছে।

এরপর জান্নাত লিখেছেন, সাদা সাদা জামা পরলে আর বড় মাওলানা হলেই মানুষ হয় না। মুখোশধারিও হয়। মামুন সাহেব আমার শরীরটা কিনেছে কেন আল্লাহ?

চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি জান্নাত লিখেছেন, টাকা দিয়ে আমার দেহ কিনেছিলেন। আজ আপনার টাকা আমি ফেরত দিতে চাই। শুধু আমার সময় ফেরত চাই। কেন করেছিলেন এমন। আপনার অনেক টাকা ছিলো, পাওয়ার ছিলো তাই? বিবাহবহির্ভূত মেলামেশার অনুশোচনার কথাও উঠে এসেছে ঝর্ণার ডায়েরিতে। ডায়েরির পাতায় পাতায় রয়েছে মামুনুলের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের আর্তনাদ। ডায়েরিতে ঝর্ণা লেখেন, আমি তাকে ভালোবাসি না ঘৃণা করি বুঝতে পারছি না। কিন্তু সে আমার জীবনকে নরক বানিয়ে ফেলছে।

কয়েক দিন ধরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর বৃহস্পতিবার ফেসবুক লাইভে এসে বিষয়টির জন্য ক্ষমা চান মামুনুল হক। সেখানে তিনি স্বীকার করেন গত কয়েক দিনে ফাঁস হওয়া ফোনালাপ তারই ছিলো। আত্মপক্ষ সমর্থন করে মামুনুল বলেন, স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে, স্ত্রীকে খুশি করতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে কোনো সত্যকে গোপন করা যায়।

স্বাআলো/এসএ