সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গাছ বিক্রি করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

যশোরের আব্দুল বারী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রেজুলেশন ছাড়াই সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক মিলে গোপনে ১৭টি বড় বড় গাছ কেটে টাকা আত্মসাৎ করেছে। প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্য সাজ্জাদুল হাসান মিন্টু এ অভিযোগ করেন।

তিনি জানান, করোনাকালীন সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা কেউই স্কুলে যান না। সেই সুযোগে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও হৈবতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ও প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান লাভলু একক সিদ্ধান্তে গাছ বিক্রি করে দেন। পুরো টাকায় তারা দুইজন আত্মসাৎ করেছেন। টাকার হিসাব তো তারা দিচ্ছেনই না উল্টো বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন। স্কুলে খেলার মাঠ ও বিল্ডিংয়ের চারপাশে অসংখ্য গাছ রয়েছে। তারমধ্য থেকে ১৫টি মেহগনি ও ৩টি লম্বু গাছ বিক্রি করা হয়েছে। যার মূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকার কাছাকাছি।

ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য আবু সাঈদ জানান, স্কুলের গাছ বিক্রি করা হয়েছে তিনি জানেনই না। রবিবারে স্কুলের পাশ দিয়ে বাজারে যাওয়ার সময় দেখে ব্যাপারীরা গাড়িতে করে গাছ নিয়ে যাচ্ছে। তারপর তিনি প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির কাছে বিষয়টি সর্ম্পকে জানতে চাইলে তারা গোপন রাখতে বলেন ও পরে তার সাথে আলোচনা করবেন বলে জানান।

বিদ্যুৎসাহী সদস্য আবু সিদ্দিক জানান, স্কুল বন্ধ থাকায় সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক তাদের ইচ্ছামতো কাজ করছেন। ম্যানেজিং কমিটির কোনো মির্টিং হয় না। তারা দুজন মিলেই সিদ্ধান্ত নেন। গাছ কাটার ঘটনাটি জানাজানি হলেও তারা স্কুলে ফান্ডে টাকা ফেরত দিতে রাজি হচ্ছেন না। সবাইকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন।

যশোরে ছেলের পিটুনিতে বাবা নিহত

প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান লাভলু বলেন, বিল্ডিং রক্ষার স্বার্থে গাছ কাটা হয়েছে। বিষয়টি সভাপতি ভালো করে বলতে পারবেন। কোনো সমস্যা নেই। নিয়মতান্ত্রিকভাবেই সব করা হয়েছে।

সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিল্ডিংয়ের পাশে গাছ থাকলে ঝড়ে বিল্ডিংয়ের অসুবিধা হয়। ভেঙ্গে পড়ার সম্ভবনা থাকে। আমফান ঘূর্ণিঝড়ে গাছ পড়ে যাওয়ায় বিল্ডিংয়ের বেশ ক্ষতি হয়েছে। সেই জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি গাছ বিক্রি করা হয়েছে। সব সময় তো ভালো মূল্য পাওয়া যায় না তাই হঠাৎ করেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নিষেধ করায় আপাতত গাছ কাটা বন্ধ রাখা হয়েছে। যেসব গাছ বিক্রি করা হয়েছে তার টাকা ফান্ডে জমা দেয়া হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এম. কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর বলেন, এ ধরণের একটি অভিযোগ শুনেছি। সত্যতা মিললে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্বাআলো/এস