ছেলের নৃশংসতার শিকার দুই বাবা

যশোরে পর পর দুদিনে দুই বাবা ছেলের নৃশংসতার শিকার হয়েছেন। একটি ঘটনায় ছেলে বাবা সরোয়ার হোসেনকে (৪৮) পিটিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার বসুন্দিয়ায়। ৯ এপ্রিল সরোয়ার হোসেনের সাথে তার স্ত্রী হাসিনা বেগমের ঝগড়া হয়। এ ঘটনায় ছেলে জসিম উদ্দিন নয়ন বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করে। অন্য ঘটনায় ছেলে মতিয়ার রহমান মুনিমের ছুরিকাঘাতে বাবা শেখ মশিয়ার রহমান আহত হয়েছেন। এ ঘটনাটি ঘটেছে ৮ এপ্রিল রাতে যশোর শহরের শংকরপুরে।

এই পৃথিবীতে এ যাবৎ কাল যতো মানুষের আগমন ঘটেছে তার একজনও মা-বাবার আদর স্নেহ ছাড়া বড় হতে পারেনি। বয়োপ্রাপ্তি পর্যন্ত সন্তানটিকে গড়ে তুলতে মা-বাবা যা করেছেন সারা পৃথিবীকে একপাশে দিয়ে ওজন করলেও তার সমান হবে না। সেই মা-বাবা জীবন সাহাহ্নে এসে কিছু কিছু সন্তানের কাছ থেকে যে অনাদর অবহেলা পাচ্ছেন তার বর্ণনা শুনলে অনুভুতিপ্রবণ মানুষের চোখে পানি না এসে পারে না। মা-বাবার সাথে এ সব নরাধমদের এ ধরণের নিষ্ঠুরতম আচরণের কথা প্রায় গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। সর্বশেষ ঘটনা দুটিও ১০ ও ১১ এপ্রিল প্রকাশ হয়েছে ।

হাল আমলে এমন ধরনের অমানবিক খবর প্রায় গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। মা-বাবা সন্তানের কাছে কত বড় বোঝা হয়েছে যে, তাদেরকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করছে। একমুঠো ভাত দিতেও সন্তানরা বোঝা মনে করছে।

যশোরে করোনা ঝুঁকি, সব ক্ষেত্র নিয়ন্ত্রিত হোক

বন্য পশু আর শংকরপুরের মতিয়ার রহমান মুনিম ও বসুন্দিায়ার জসিম উদ্দিন নয়নের মধ্যে পার্থক্য করা যায় কি? বন্য মা-পশুর বাচ্চাগুলো বড় হয়ে গেলে যে যার মতো এদিক সেদিক চলে যায়। মার ভাগ্যে কি হলো তা আর তারা দেখে না। এটা প্রাকৃতিক বিধান। এ বিধান পশুর জন্য প্রযোজ্য। মানুষের জন্য নয়। কারণ মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত অর্থাৎ সৃষ্টির সেরা জীব। যারা মানুষের সমাজে বাস করেও পশুর মতো আচরণ করে তাদের এ সমাজে বাস করার কোনো অধিকার থাকা উচিত নয়। বনই তাদের জন্য উপযুক্ত স্থান।

মা-বাবার দোয়া ছাড়া ইহকাল পরকাল কোনো কালেই সন্তানের কল্যাণের আশা নেই। মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেস্ত। ধর্মের এই মর্মবাণী কি তাদের কানে কোনো দিন পৌছায়নি?

দিন দিন পারিবারিক বন্ধন যে ভাবে শিথিল হচ্ছে তাতে এক দিন দেখা যাবে প্রবীণদের দেখার বা সেবা-যত্নের কেউ নেই। এ ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগে প্রবীণদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা উচিত বলে আমরা মনে করি।

স্বাআলো/এস