রোজা রাখলে যেসব পুরস্কার পাবেন

প্রাপ্ত বয়স্ক প্রত্যেক মুসলিমের জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে। রোজার মাধ্যমে তাকওয়া অর্জন করা যায়। রোজা শুধু বাহ্যিক পানাহার বর্জনের নাম নয়, বরং রোজার আরো কিছু শিক্ষা আছে। রোজার মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি পুরো আনুগত্য করা যায় এবং পাপ কাজ থেকে মুক্ত থাকা যায়।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা এবং সে অনুযায়ী আমল বর্জন করেনি, তার এই পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯০৩)

১. আল্লাহ স্বয়ং যে পুরস্কার দেবেন: রোজার পুরস্কারই আল্লাহতায়ালা মুমিনকে স্বয়ং দেবেন। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্যই-রোজা ছাড়া। তা আমার জন্য, আমি নিজেই তার পুরস্কার দেবো। আর রোজাদারদের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিসকের ঘ্রাণের চেয়ে বেশি সুগন্ধযুক্ত। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৯২৭)

২. যে আমলের বিকল্প নেই: আবু উমামা (রা.) বলেন, আমি একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বললাম, আমাকে এমন একটি ইবাদতের নির্দেশ দিন, যা আমি আপনার নির্দেশক্রমে পালন করবো। তিনি বললেন, তুমি রোজাকে আঁকড়ে ধরো, যেহেতু এর কোনো বিকল্প নেই। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ২২২০)

রমজানে কেমন হবে জীবনযাপন?

৩. রোজা মুমিনের ঢালস্বরূপ: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, রোজা ঢালস্বরূপ। সুতরাং অশ্লীলতা করবে না এবং মূর্খের মতো কাজ করবে না। যদি কেউ তার সঙ্গে ঝগড়া করতে চায়, তাকে গালি দেয়, তবে সে যেন দুইবার বলে, আমি সওম পালন করছি। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৯৪)

৪. জাহান্নাম থেকে মুক্তি: আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, আমি নবী (সা.)বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় এক দিনও সিয়াম পালন করে, আল্লাহ তার মুখমণ্ডলকে জাহান্নামের আগুন থেকে ৭০ বছরের রাস্তা দূরে সরিয়ে নেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৮৪০)

৫. ফিতনা থেকে আত্মরক্ষা: হুজায়ফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মানুষ নিজের পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, পাড়া-প্রতিবেশীদের ব্যাপারে যে ফিতনায় পতিত হয়, নামাজ, রোজা, দান, (ন্যায়ের) আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ তা দূরীভূত করে দেয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫২৫)

৬. জান্নাত লাভ: হযরত সাহল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, জান্নাতের রাইয়্যান নামক একটি দরজা আছে। এই দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন রোজা পালনকারীরাই প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা দেয়া হবে, রোজা পালনকারীরা কোথায়? তখন তারা দাঁড়াবে। তারা ছাড়া আর কেউ এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। তাদের প্রবেশের পরই দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে, যাতে এই দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ না করে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৯৬)

পবিত্র মাহে রমজান

৭. দোয়া কবুল: আল্লাহ রোজাদারের দোয়া কবুল করেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তিন ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়: রোজাদারের দোয়া, অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া ও মুসাফিরের দোয়া। (সুনানে বায়হাকি)

আল্লাহ সবাইকে সঠিকভাবে রোজা পালন করার তাওফিক দিন। আমিন।

স্বাআলো/এস