শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের ভিডিও ভাইরাল, মাদরাসা শিক্ষক বহিষ্কার

কুড়িগ্রাম: নির্ধারিত বাড়ির কাজ না লিখে অন্য লেখা জমা দেয়ায় সাত বছরের কওমি মাদরাসার দ্বিতীয় জামায়াতের এক শিশু শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারপিট করেছে এক শিক্ষক।

এমন অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের ঢেবঢেবি বাজার কুলছুম কওমি মাদরাসায়।

এ ঘটনায় শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীকে মারধরের একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হলে বিষয়টির সুরাহা করতে গতকাল সোমবার বিকেলে সালিশি বৈঠকের আয়োজন করে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ৩০সেকেন্ডের মারপিটের ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যায় মাদরাসার শিক্ষক আবু সাইদ টুপি মাথায় সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় শিক্ষার্থীর নিকট থেকে পড়া আদায় করছেন। তার বাম হাতে একটি খাতা বা বই ডান হাতে একটি বেত নিয়ে বসে আছেন। কিছুক্ষণ পর গোলাপি পাঞ্জাবি পরিহিত একজন শিক্ষর্থীকে আঘাত করছেন। আরেকটি সাদা পাঞ্জাবি পড়া একজন শিশু শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে গুতা দিয়ে মাথা নিচু করে মাটিতে ফেলে পশ্চাৎ পদে বেধড়ক পিটাতে থাকেন।

এক পর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষক রাগান্বিত হয়ে ওই শিক্ষার্থীও বাম হাত চেপে ধরে জোরে জোরে পিটাতে শুরু করেন। মার সহ্য করতে না পেরে ওই শিক্ষার্থী মাগো বলে চিৎকার শুরু করেন। তবুও শিক্ষক গায়ের জোরে পিটাতে থাকেন। এসময় শ্রেণির অন্যান্য শিক্ষার্থীরা নিশ্চুপ হয়ে যায়।

মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, ধর্ষক গ্রেফতার

শিক্ষার্থীর পিতা জানান, ঘটনাটি মার্চের ২৭ তারিখের। ছেলেকে বাড়ির কাজের জন্য নির্দিষ্ট একটি লেখা দিয়েছিলো। সে নির্দিষ্ট লেখাটি না লিখে অন্য লেখা শিক্ষকের নিকট জমা দেয়ায় এমন মারপিট করেছে ওই শিক্ষক। ছেলে বাড়িতে এসে এসব বিষয় ভয়ে জানায়নি।

কিন্তু সোমবার দুপুরে ফেসবুকে আমি ভিডিওটি দেখে আতকে উঠি। বাড়িতে গিয়ে ছেলের কাছে সব ঘটনা শুনতে পাই। ছেলে হুজুরের ভয়ে এতোদিন আমাদের বিষয়টি জানায়নি। ছেলের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন মারপিটের কথা কাউকে বললে তাকে মেরে ফেলবে বলে হুজুর ভয় দেখিয়েছে।

মোতালেব হোসেন আরো বলেন, আমার ছেলে ছাড়াও আরো তিন চারজন শিক্ষার্থীকে ওই হুজুর একইভাবে নির্যাতন করেছে বলে জানতে পেরেছি। এই বিষয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা সোমবার বিকেলে মিটমাট করার জন্য বসার কথা ছিলো। কিন্তু আমি উপস্থিত থাকতে পারিনি।

যশোরে মাদরাসাছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

অভিযুক্ত শিক্ষক আবু সাইদ জানান, ঘটনাটি প্রায় দেড় দুই মাস আগের। সেখানে দ্বিতীয় জামায়াতের কোনো শিক্ষার্থী ছিলো না। যারা ছিলো তারা তৃতীয় জামায়াতের শিক্ষার্থী। পরীক্ষা চলার সময় শিক্ষার্থী আমার সাথে বেয়াদবি করায় একটু শাসন করেছি। বিষয়টি নিয়ে সে সময় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাকে পানিশমেন্ট দিয়ে সংশোধন করে নিয়েছে।

এ বিষয়ে মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মৌলভী মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক পাথরডুবি বাজারের বাসিন্দা। তিনি দেড় বছর ধরে এই মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন। দ্বিতীয় জামায়াতের ওই শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিষয়ে সোমবার বাদ আছর মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এবং নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটা মিটিং করা হয়েছে। মিটিংয়ে শিক্ষক আবু সাইদকে বহিস্কার করা হয়েছে।

বাগেরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, মাদরাসাছাত্র গ্রেফতার

কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা জানান, বিষয়টি আমরা ক্ষতিয়ে দেখছি। ঘটনার সত্যতা পেলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারের নির্দেশ অমান্য করে মাদরাসা চালু রাখা এবং শিশু নির্যাতনের অভিযোগে দুটি মামলা করা হবে।

স্বাআলো/এসএ/এস