অসহায়

আমি কি পাহাড় হয়ে গেছি?
কঠিল শীলার পাহাড়!
বরফাবৃত সুউচ্চ শীতল পাহাড়!
নীরবে দাড়িয়ে আছি, শুধুই দাড়িয়ে আছি।

কোনো প্রতিবাদ করতে পারছি না,
কারো সহায় হতে এগিয়ে যেতে পারছি না,
ভালোবেসে কাউকে বুকে নিতে পারছি না।
খেয়ালী সমাজকে গুড়িয়ে দিতে ইচ্ছে হয়, পারছি না,

কৃত্রিমতাকে পাথর চাপা দিতে ইচ্ছে হয়, পারছি না।
বুক ভরে জীবানুমুক্ত নিঃশ্বাস নিতে ইচ্ছে করে, পারছি না।
ঘরে ঘরে শিক্ষার্থীদের আলো পৌঁছে দিতে ইচ্ছে করে, মিছিলে নিতে ইচ্ছে করে, মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতে ইচ্ছা করে, পারছি না।

নিষ্ঠুরতাকে হার মানাতে পারছি না, বলৎকার ঠ্যাকাতে পারছি না, ধর্মান্ধতা রোধ করতে পারছি না।
হাটহাজারির মাদ্রাসার ছাদে উঠে চিৎকার করে জয়বাংলা শ্লোগান দিতে পারছি না,
অসাম্প্রদায়িক চেতনায় মানুষকে জাগিয়ে তুলতে পারছি না,
মানবতার অনেক উচ্চতায় মানুষকে নিয়ে যেতে ইচ্ছে হয়, পারছি না।

ইচ্ছা করে জঙ্গল কেঁটে ফুলের বাগান করি,
ইচ্ছা করে নতুন করে সুগম্য তোরণ করি,
পুরাতন সিড়ি ভেঙ্গে নতুন সিড়ি করে একসাথে উঠে যাই, পারছি না।
ইচ্ছা করে দড়াটানার কালভার্ট চুর্ণবিচুর্ণ করে দু’কূল ভেঙ্গে ভৈরবকে স্রোতস্বিনী করে পাল তুলে চলি, পারছি না,

ইচ্ছা করে অলিগলি দখলে নিয়ে ঢাকাকে বেদখল মুক্ত করে চারলেনের পথে নির্বিঘ্নে রিক্সায় ঘুরি, পারছি না।
অসহায় কৃষকের ক্ষেতের ধান ঘরে তুলে দিতে পারছি না,
মানুষের মুখে অন্ন দিতে পারছি না, হাসি ফুটাতে পারছি না,
চোখের পানিটুকু মুছে দিতে পারছি না,

মনের মতোন করে প্রিয়তমাকে ভালোবাসতেও পারছি না,
সমাজকে ভেঙ্গেচুরে নতুন করে গড়ে তুলতে পারছি না,
কিছুই পারছি না, পারছি না, পারছি না।
পারছি না কাউকে কিচ্ছু বোঝাতে,

পারছি না কোনো কথা কাউকে শোনাতে,
চিৎকার করেও বলতে পারছি না,
ইচ্ছাগুলো নিয়ে কাঁদতেও পারছি না,
বুক ফাঁটা এ আর্তনাদ সয়ে দাড়িয়ে আছি,

সকল অনুভূতি-ইচ্ছা শক্তি নিয়ে
নিথর দেহে ঠায় দাড়িয়ে আছি।
অকৃতজ্ঞ হয়ে নির্লজ্জের মতো দাড়িয়ে আছি,
পাষাণ হয়ে দাড়িয়ে আছি,
যেন এক জীবন্ত কঠিন শীলার নিঠুর পাহাড়।

প্রফেসর ড. মোল্লা আমীর হোসেন
চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, যশোর।