মণিরামপুরে কলেজছাত্রের আত্মহত্যা, তিন পৃষ্ঠার ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার

যশোরের মণিরামপুরে রাকিব গাজী (১৮) নামে এক কলেজছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয়েছে।

সোমবার দুপুরে রাজগঞ্জ ক্যাম্প পুলিশ উপজেলার চাকলা মাঠপাড়া থেকে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে।

রাকিব চাকলা মাঠপাড়ার আবু মুসা গাজীর ছেলে। সে কলারোয়া হাজী নাসিরুদ্দিন ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।

একইসাথে পুলিশ তিন পৃষ্ঠার ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, রাকিবের মরদেহের কাছেই ‘সুইসাইড নোট’ ছিলো। তাতে উল্লেখ রয়েছে ‘অ্যাপাচি’ মোটরসাইকেল কিনে না দেয়ায় কষ্টে রাকিব আত্মহত্যা করেছে। সে তার লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়া বাড়ির উঠানে দাফনের কথা উল্লেখ করেছে নোটে।

রাকিব যেখানে ঝুলছিলো সেই আড়ার উচ্চতা খাট থেকে তিন ফুট উঁচু হবে। এতো কম উচ্চতার মধ্যে তার মৃত্যু মানতে পারছেন না অনেকে। ফলে তার মৃত্যু আত্মহত্যা না পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে প্রতিবেশীসহ রাকিবের সহপাঠিদের। ‘সুইসাইড নোট’ নিয়েও সন্দেহ তাদের।

সোহান নামে রাকিবের এক সহপাঠি বলেন, রাকিব ঘুমের বড়ি খেতো। ‘অ্যাপাচি’ মোটরসাইকেল কিনতে চাইছিলো। কিন্তু এরজন্য রাকিব মরতে পারে না।

ঘরে রাকিবের সৎ মা। সাত বছর বয়সে তার মা লিলি বেগম তাকে ও লাবনী নামে এক মেয়েকে রেখে চলে যান।

রাকিবের সৎ মা রেশমা বেগম জানান, মোটরসাইকেল না কিনে দেয়ায় রবিবার রাতে ঘরের আড়ার সাথে মাফলার পেঁচিয়ে রাকিব আত্মহত্যা করেছে।

সোমবার সকাল সাতটার দিকে আমরা তাকে ঝুলে থাকতে দেখেছি।

রাকিবের মা লিলি বেগমের দাবি, সৎ মা রেশমা বেগম ও পিতা আবু মুসা রাকিবকে মেরে লাশ ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে।

তবে রাকিবের আপন বোন লাবনী জানান, তার ভাই ঘোমের ঔষুধ সেবন করতো। সিগারেট টানতো। মোটরসাইকেল না পেয়ে রাকিব আত্মহত্যা করেছে।

যশোরে পুত্রবধূর মামলায় শাশুড়ি ও তিন ননদ গ্রেফতার

লাবনী বলেন, ছোট্টকালে মা আমাদের দুই ভাই বোনকে রেখে চলে যান। এরপর থেকে সৎ মা আমাদের আপন সন্তানের মতো মানুষ করেছেন। আমার মা এতোদিন খবর নেননি। আজ ভাইয়ার মরার খবর শুনে এসেছেন। মা যা বলছেন সত্যি না। তিনি নতুন করে সমস্যা বাধাতে চাচ্ছেন।

রাজগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই লিটন বলেন, ঘুমের বড়ি খেয়ে রাকিব আত্মহত্যা করেছে না তাকে মেরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে তা প্রাথমিকভাবে বোঝা যাচ্ছে না। প্রকৃত কারণ জানতে লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, কাগজে লেখা কিছু পেয়েছি। সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাজগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর শাহাজাহান আলম বলেন, রাকিবের মা যা বলছেন সেটা আবেগ। আমরা লাশ মর্গে পাঠিয়েছি।

স্বাআলো/মেহেদী/এসএ