যৌতুক লোভীরা উচ্ছিষ্টভোগী

যৌতুকের জন্য নারী নির্যাতনের ঘটনা এ সমাজে অহরহ ঘটছে। কিন্তু প্রতিকারের কোনো স্থায়ী পথ বেরুচ্ছে না। আমরা কথায় কথায় বিনয়ী ভদ্র খোঁজ করি। এ মানবিক গুণের কারণেই এই খোঁজটা করা হয়। কেউ চলার পথে ভুল করলে আমরা তাকে অভদ্র বলে গালি দেই। কিন্তু অনেককেই দৃশ্যত ভদ্র মানুষ বলে মনে হয়। কিন্তু নৈতিকতার অভাব হলে ভদ্র নামধারীরা জানোয়ারই হয়। তাদেরই হাতে নির্যাতিত হবে নারী, নির্যাতিত হবে অগণিত মা-বোন।

এমনই এক ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। ওই খবরে বলা হয়েছে যৌতুকের কারণে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ছোটখুদড়া গ্রামে যৌতুকের টাকা না পেয়ে রেহানা বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। যৌতুক না পেয়ে স্বামী তার স্ত্রীর ওপর মানসিক ও দৈহিক নির্যাতন শুরু করে। মেয়ের এ কষ্ট নিবারণে বাবা বার কয়েক জামাইকে টাকা দিয়েছেন। কিন্তু তার টাকার চাহিদা পূরণ না হওয়ায় আবারো নির্যাতন শুরু হয়। তাকে এমনভাবে নির্যাতন করা হয় যে তার দু’হাত ও এক পা ভেঙে গেছে। ২০১৩ সালে যৌতুকের দাবিতে রেহানাকে তার স্বামী দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।

মানুষ কত বিবেকহীন হলে এমন কাজ করতে পারে। আসলে এটা তার খাছিলত। অসীম চাহিদা নিয়ে সব কিছুতে অতৃপ্ত থাকেন। কথায় আছে ‘যে অল্পে তুষ্ট সেই সুখী’। ওই স্বামী অল্পে তুষ্ট হবার মানুষ নয়। এজন্য বার বার টাকা পেয়েও তার চাহিদা পূরণ হয়নি। আসলে ‘খাছিলত যায় মরলে’ প্রবাদ কথাটিই সত্য। আলোচিত ওই স্বামী না মরা পর্যন্ত তার খাছিলত যাবে না। সরকারের উচিত এসব যৌতুক লোভীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

স্বাআলো/আরবিএ