মাগুরায় নালিমে স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

মাগুরা: নালিম নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছেন মাগুরার কৃককরা। নালিম চাষের প্রতি ঝুঁকছে এখানকার কৃষকরা। বাজারে এটির চাহিদাও ব্যাপক। যে কারণে ক্রমশ বাড়ছে নালিমের বাণিজ্যিক আবাদ। মাগুরা সদর উপজেলার নড়িহাটি, ইছাখাদা, শিবরামপুর, হাজরাপুর, হাজিপুর, মির্জাপুর, আলাইপুর, ফুলবাড়ি, ধলফা বগুড়া, রাউতড়া, মিঠাপুরসহ অন্তত ১৫টি গ্রাম এখন নালিম চাষের জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠেছে।

কৃষকরা জানিয়েছেন, এটির আবাদ পদ্ধতি বাঙ্গির মতোই। নালিমের রং ও স্বাদও বাঙ্গিরই মতো। শুধু আকারটা একটু ছোট। প্রতি বিঘা জমিতে নালিম চাষে খরচ হয় ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। এটির আবাদে সার কিম্বা অন্য কৃষি উপকরণ তেমন প্রয়োজন না হওয়ায় লাভ হয় বেশি।

বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, বর্তমানে নালিমের ভরা মৌসুমে প্রতিদিন বিভিন্ন ক্ষেত থেকে একাধিক ট্রাক নালিম ভর্তি হয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নালিম মূলত গ্রীষ্মকালীন ফল। রমজানে এটির ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। প্রতিটি নালিম ১৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাগুরা সদরের ধলফা বগুড়া গ্রামের নালিম চাষি চঞ্চল মোল্ল্যা বলেন, গত বছর নালিমের বাম্পার ফলন হয়েছিল। তবে এবার প্রচণ্ড তাপদাহে নালিমের আশানুরূপ ফলন হয়নি। তীব্র খরার কারণে অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এরই মধ্যে জমি থেকে নালিম তুলেছি। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যাপারীরা এসে আমাদের ক্ষেত থেকে ট্রাক ভর্তি করে নালিম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এবার এক ট্রাক নালিম বিক্রি করছি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামানিক বলেন, নালিম একটি পুষ্টিকর ফল। এবার জেলায় ১৬০ হেক্টর জমিতে নালিম চাষ হযেছে। বাঙ্গির বিকল্প ফল হিসাবে নালিমের কদর অনেক। তাছাড়া নালিমের বানিজ্যিক গুরুত্ব থাকায় ভবিষ্যতে এটির চাষ আরো বাড়বে। আমরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করছি আগামীতে জেলায় নালিম চাষে কৃষকদের আগ্রহ আরো বাড়বে।

স্বাআলো/এসএ