ফ্রান্সে নিষিদ্ধ হচ্ছে হিজাব

সম্প্রতি ফ্রান্সে বিল পাসের মাধ্যমে ১৮ বছরের কম বয়সী নারীদের প্রকাশ্যে হিজাব পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিতর্কিত এই প্রস্তাব পাসের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা।

ফরাসি সরকার বলছে, এর মাধ্যমে ফ্রান্সে ধর্ম নিরপেক্ষতা গতিশীল হবে। আর সাধারণ জনগণ এ উদ্যোগকে ইসলাম বিদ্বেষী আখ্যা দিয়েছে।

হিজাব বলতে সাধারণভাবে বোঝায় মুসলিম নারীদের মাথা ঢাকার কাপড়। দেশে দেশে সংস্কৃতি ভেদে হিজাবের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, সৌদি আরবসহ মুসলিম দেশগুলোতে এটি ধর্মীয় প্রতীক হিসেবে কাজ করে।

ফ্রান্সে সম্প্রতি ১৮ বছরের কম বয়সী মুসলিম কিশোরীদের প্রকাশ্যে হিজাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সিনেটে একটি বিতর্কিত বিল পাস হয়েছে। এতে মুসলমানদের ধর্মীয় ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ উঠেছে।

যদিও ফরাসি সরকারের দাবি, প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত দেশটিতে ধর্মনিরপেক্ষতারই প্রমাণ। তবে প্রস্তাবিত এ আইনকে ‘ইসলাম বিরোধী’ বলে আখ্যায়িত করছেন অনেকে। শুধু তাই নয়, এর মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিম সম্প্রদায়কে একপেশে করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য বিশ্লেষকদের।

বোরকা নিষিদ্ধের দেশে এখন মুখ না ঢাকলেই জরিমানা

‘জনসম্মুখে আর হিজাব পরতে পারবো না জেনে আমি খুব অবাক হয়েছি। এই আইন পাস হলে, ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য আমার ১৮ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এটা খুবই অমানবিক।’ বলছিলেন ফ্রান্সের এক মুসলিম নারী।

আরেক নারী বলেন, আমরা আশা করছি, এই আইন যেনো পাস না হয়। এটি আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। আমাদের বিশ্বাস ও পছন্দের উপর সরকার স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না।

এর আগে, ২০১১ সালে হিজাব অবৈধ করে বোরকা ও নিকাব পরা নারীদের জন্য জরিমানা আরোপ করা হয় দেশটিতে।

স্বাআলো/এস