গণপরিহনে সীমাহীন স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ন্ত্রণের কেউ নেই

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ধাক্কা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মানতে গণপরিবহনে যাত্রী কমিয়ে ভাড়া বাড়িয়ে দেবার সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার। কিন্তু পরিবহণ শ্রমিকরা বর্ধিত ভাড়ার সুযোগ নিলেও যাত্রী আগের মতোই তুলছে। বাসের সেই গুড়গাদা অবস্থা এখনো বহাল রেখেছে তারা। স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই। শুধু তাই নয়। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত যাত্রীদের সাথে শ্রমিকদের সংঘাত হচ্ছে।
গণমাধ্যমে এমন একটি রিপোর্ট ছাপা হয়েছে ১৭ মে । রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাসে ভাড়া দ্বিগুণ নেয়া হলেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করা গেছে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস শ্রমিকরা মানছে না। এ বিষয়ে শ্রমিকদের সংগঠনের এক নেতা তার বক্তব্যে তিনি কিছু জানেন না বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেছেন। এদিকে সরকারের ওই সিদ্ধান্ত কার্যকরে কারো যেন কোনো মাথা ব্যথা নেই। খোদ সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেখানে স্বাস্থ্যবিধিতে জোর দিয়েছেন সেখানে এমন অবস্থাটা হচ্ছে কেন?
আমাদের জানা মতে যশোরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সরকারি সিদ্ধান্ত বস্তবায়নের ক্ষেত্রে আন্তরিক। পরিবহন ক্ষেত্রে শ্রমিকদের স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়টি তাদের অজ্ঞাতেই ঘটছে বলে আমাদের ধারণা। গত বছর পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করা হয়। এজন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করেছিলেন। এবার এখনো সে রকম কিছু দেখা যায়নি। এজন্যই পরিবহন শ্রমিকরা হাতির পাঁচ পা পেয়েছে। তাদের স্বোচারিতার ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে ভুল ধারণা সৃষ্টি হয়েছে, যাত্রী কম তোলা একটা অজুহাত মাত্র। সরকার ৬০ ভাড়া বেশি করে দিয়ে বাস মালিকদের স্বার্থ দেখেছে। পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর না হওয়ায় সরকারের মহৎ কর্মের অর্জনটা ম্লান হয়ে যাচ্ছে। গণপরিবহনে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির বিষয়টি যেহেতু গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে সেহেতু এটি আর সরকারি-বেসরকারি কোনো পক্ষের অজানা থাকার কথা নয়। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ করে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করে জানাবো অবিলম্বে পরিবহনের এ স্বেচ্ছারিতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হোক। পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলবো আর শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করবেন না। সরকার যেখানে আপনাদের স্বার্থ দেখে ভাড়া বাড়িয়েছে সেখানে আপনারা কেন অতিরিক্ত যাত্রী তুলছেন। যারা প্রতিনিয়ত কর্মস্থলে আসা-যাওয়া করে তাদের মাঝে স্বল্প আয়ের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা বেশি। এভাবে যদি নির্বিচারে তাদের পকেট কাটা যায় তাহলে ক্ষোভের চাপা আগুনে তার দগ্ধ হবেন।
একজন পরিবহন শ্রমিক অবশ্য বলেছেন, যাত্রীদের পীড়াপিড়িতে তাদেরকে বাসে তুলতে হচ্ছে। এতে যাত্রী বেশি হয়ে যাচ্ছে। তাদের বাসে না তুললে অফিস অথবা অন্য যে কোনো কর্মস্থলে সময় মতো পৌছাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তার কথাটা অযৌক্তিক নয়। এ ক্ষেত্রে বাসের ট্রিপ সংখ্যা বাড়াতে হবে। আগের মতো ট্রিপ থাকলে তো সব যাত্রী বাসে উঠতে পারবে না। এ সাধারণ কথাটি প্রশাসন ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ভাবতে হবে। নানা অজুহাতে স্বাস্থ্যবিধি ভাঙা যাবে না, যাবে না মানুষের পকেট কাটা।